বাসর রাতে নববধূর সন্তান প্রসব

[su_heading size=”20″ margin=”30″]কুমিল্লা জেলার লাকসামে বাসর রাতে এক নববধূর সন্তান প্রসবের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, গত রোববার (১৮ নভেম্বর) উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের আমদুয়ার পূর্বপাড়া গ্রামে।[/su_heading]

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার একই ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের উত্তরপাড়ার দুলাল মিয়ার কন্যা ফারজানা আক্তারের সাথে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহরে আমদুয়ার গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেনের (২০) বিয়ে হয়। বিয়ের পরদিন ছেলের বাড়িতে বৌভাত অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। এতে কনে পক্ষের শতাধিক অতিথি যোগ দেয়। বিয়ের দু’দিন পর শনিবার রাতে ফুলশয্যার আয়োজন করে বরের বন্ধুরা। বাসর ঘরেই নববধূর পেট ব্যাথা শুরু হয়েছে বলে জানায় এবং তাকে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়ার জন্য স্বামীর বাড়ির লোকজনকে চাপ সৃষ্টি করে নববধূ ফারজানা। রাত বেশি হওয়ায় নববূধুকে পিত্রালয়ে পাঠানো সম্ভব হয় না। ভোরে ঘরের পাশে টয়লেটে গেলে নববধূ ফারজানা হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে। এ সময় বাড়ির লোকজন ছুটে এলে নবজাতকের কান্নার শব্দ পায়। পরে পরিবারের লোকজন টয়লেট থেকে নববধূ ও নবজাতককে উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে যায়।

সোমবার দুপুরে উপজেলার আমদুয়ার গ্রামে বরের বাড়িতে গেলে নববধূর শাশুড়ি জাহারা খাতুন বলেন, প্রসবের পর নবজাতককে হত্যার চেষ্টা করেছিল ফারজানা। প্রসবের পর টয়লেটের কমোডে ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করায় নবজাতকের মাথায় সামান্য আঘাতের চিহ্ন ও ময়লা লেগেছিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে নববধূর পিতার বাড়ির লোকজনকে খবর দেয়া হয়।

খবর পেয়ে কৃষ্ণপুর গ্রামের ওয়ার্ড মেম্বার তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন এসে নবজাতক ও নববধূ ফারজানাকে পিত্রালয়ে নিয়ে যায়। জাহারা খাতুন কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘এ ঘটনায় আমাদের সামাজিক মর্যাদাহানি হয়েছে। বিয়েতে আমাদের অনেক টাকা-পয়সা নষ্ট হয়েছে। যারা আমাদের এ ক্ষতি করেছে তাদের উপযুক্ত বিচার চাই।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কনে পক্ষের লোকজন নববধূ ও নবজাতককে নিয়ে যাওয়াকালে বিয়ের সময় বরপক্ষের দেয়া গয়নাগুলো ফেরত দিয়ে বিয়ের খরচ বাবদ ৫০/৫৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। স্থানীয় ভাবে জানা যায়,লম্পট পারভেজ গত ১৫নভেম্বর সৌদি আরব পাড়ি জমিয়েছে।

বিয়ের আগে পার্শ্ববর্তী বাড়ির সৌদি প্রবাসী মাহবুবুল আলম দুলালের ছেলে মেহেদী হাসান পারভেজের সাথে ফারজানার সম্পর্ক ছিল। যা এক পর্যায়ে দৈহিক সম্পর্কে রুপ নেয়। বর্তমানে অভিযুক্ত পারভেজ পলাতক আছে।