মোনালিসা আসলে কে? বিখ্যাত মোনালিসা’র অজানা কাহিনি!

মোনালিসার হাসি যেন পৃথিবীতে প্রতি মুহূর্তে প্রচার করছে নারীর রহস্যময়তা। আর তারোধিক রহস্য জমে আছে খোদ মোনালিসাকে ঘিরেই। কে এই অনিন্দ্যসুন্দর হাসির অধিকারিণী?

Mona Lisa

শত শত বছর ধরে অসংখ্য নারী মোনালিসা হওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কেউ কেউ আবার মনে করেন, মোনালিসার কোন অস্তিত্বই নেই। তাদের ধারণা মোনালিসা স্রেফ লিওনার্দোর কল্পনা।

১৫০৩ থেকে ১৫০৬ সালের মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে লিওনার্দো দা ভিঞ্চি পাইন কাঠের টুকরোতে ছবিটি আঁকেন। ১৫০৩ সালে ভিঞ্চি মোনালিসা আঁকা শুরু করলেও ১৫১৫ সালে মোনালিসা আঁকার সময় তিনি রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। ১২ বছর সময় নিয়ে আঁকা মোনালিসার ছবি সম্পূর্ণ না করেই তিনি মারা যান! অর্থাৎ আমরা মোনালিসার যে ছবিটি এখন দেখি সেটিতে আরো কিছু আঁকার বাকি ছিল।

মোনালিসা সম্পর্কে প্রথম যিনি বলেছিলেন তিনি হলেন গিওর্গিও ভাসারি। ভাসারি ছিলেন লিওনার্দোর শিষ্য এবং পরবর্তীতে তিনি  দা ভিঞ্চির জীবনী লেখেন। তিনি তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেন, লিসা ছিলেন ফ্লোরেন্সের অত্যন্ত প্রতিপত্তিশালী রেশম ব্যবসায়ী ফ্রান্সেসকো ডেল গিওকন্ডোর চতুর্থ স্ত্রী। ইটালিতে গিওকন্ডো শব্দের আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে, উৎফুল্ল, উল্লসিত, আনন্দিত। লিওনার্দো হয়তো হাসির মধ্য দিয়েই এই নামের সার্থকতা রাখতে চেয়েছিলেন।

যদিও এডেলেইডের শিল্প ঐতিহাসিক মেইকি ভোগট-লুয়েরসেন মনে করতেন ফ্লোরেন্সের কোন ধনাঢ্য রেশম ব্যবসায়ীর স্ত্রী নন বরং মোনালিসা হচ্ছে লিওনার্দোর প্রেমাকাঙক্ষী মিলানের প্রাক্তন ডাচেস ইসাবেলা অব এ্যারাগন। ১৪৮৮ সালের শেষের দিকে ইসাবেলার সাথে বিয়ে হয় ডিউক অব মিলানের। কিন্তু বৈবাহিক জীবনে তিনি সুখী ছিলেন না। ডিউক মিলান ছিল মদ্যপ, নপুংসক এবং স্ত্রী নির্যাতনকারী। প্রায় সতের বছরের গবেষণার পর তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন। মেইকির এই গবেষণার ফলাফল “Who is Mona Lisa? In Search of Her Identity” নামে জার্মানিতে গ্রন্থাকারে বের হয়েছে।

Leonardo Da Vinci

এদিকে ১৫০৩ সালে লেখা এক চিঠিতে ভিঞ্চির বন্ধু ফ্রান্সিস জিয়াকন্ড তার স্ত্রী লিসা জিয়াকন্ডের একটি ছবি আঁকতে ভিঞ্চিকে অনুরোধ করেন (২০০৫ সালে এ চিঠি খুঁজে পাওয়া যায়)। আর ওই সময় ভিঞ্চি মোনালিসার ছবি আঁকা শুরু করেন। ২০০৪ সালে বিজ্ঞানী পাস্কেল পাটে মোনালিসার ছবিকে আলাদা ভাগে ভাগ করে হাইডেফিনেশন ক্যামেরায় ছবি তোলেন। পাস্কেল আবিষ্কার করেন যে মোনালিসার ছবিতে আরো ৩টি চিত্র আছে। তাদের একটি সাথে লিসা জিয়াকন্ডের মুখের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। সম্ভবত ভিঞ্চি বন্ধুর অনুরোধে লিসার ছবিটিই আঁকছিলেন।

গ্রাফিক আর্টিস্ট লিলিয়ান শোয়ার্জ ১৯৯৮ সালে কম্পিউটার ভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে কম্পিউটার স্ক্রিনে মোনালিসার প্রতিকৃতি পাশাপাশি লিওনার্দোর নিজের প্রতিকৃতি রেখে তুলনা করেন। তিনি দেখতে পান যে, মোনালিসা এবং লিওনার্দোর নাক, মুখ, কপাল, চোয়ালের হাড়, চোখ এবং ভ্রু সবকিছুই একেবারে সরলরেখায় অবস্থান করছে। লিলিয়ান এ থেকে ধারণা করেন, মোনালিসা মূলত লিওনার্দোর নিজের চেহারার রমণীয় রূপ।

সান্ডারল্যান্ড ইউনিভার্সিটির এক সার্ভেতে মোনালিসা সম্পর্কে অদ্ভুত কিছু তথ্য পাওয়া যায়। মোনালিসাকে দূর থেকে দেখলে মনে হয় সে হাসছে। কিন্তু কাছে গিয়ে তার দিকে তাকালে মনে হয় সে গভীরভাবে কোন কিছু চিন্তা করছে। মোনালিসার চোখের দিকে তাকালে তাকে হাসিখুশি মনে হয়। কিন্তু তার ঠোঁটের দিকে তাকালেই সে হাসি গায়েব! সান্দারল্যান্ড ভার্সিটির ছাত্ররা মোনালিসার ছবির বামপাশ থেকে আল্ট্রা ভায়োলেট পদ্ধতি ব্যাবহার করে ভিঞ্চির লেখা একটি বার্তা উদ্ধার করে। বার্তাটি ছিল ‘লারিস্পোস্তা শ্রী তোভাকি’- যার অর্থ ‘উত্তরটা এখানেই আছে’।