পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে এরশাদের শেষ নির্বাচন!

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোট করার ঘোষণা দিয়েছেন এরশাদ। তবে জাপার জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে ৪০টি আসনে ছাড় দেবে ক্ষমতাসীনরা। এতে লাঙল প্রতীক নিয়ে বেশিরভাগ নেতাই লড়াই করার সুযোগ পাচ্ছেন না।

এমন পরিস্থিতিকে দলের জন্য ‘লজ্জা’ ও ‘হতাশার’ বলে মন্তব্য করে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বলেন, ‘পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে এরশাদের সম্ভবত এটাই শেষ নির্বাচন। আমরা তাকে সম্মান ও সংসদে ভালো অবস্থানে আনার জন্যই তৃণমূলকে প্রস্তুত করেছি। দীর্ঘদিন লড়াই করে এখন সারা দেশে ভালো অবস্থানে এসেছি। এই অবস্থান ধরে রাখার জন্য হলেও ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়া দরকার। এবার এটি না করতে পারলে তৃণমূলে জাতীয় পার্টি বিলীন হয়ে যাবে। নেতাকর্মীরা অন্য দলের আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হবেন।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. মামুনের কণ্ঠেও একই সুর, ‘জাপার অবস্থান কতটা শক্ত, তা বোঝানোর এবারই সুযোগ। ৩০০ আসনে প্রার্থী না দিলে চাঙ্গা তৃণমূল হারিয়ে যাবে।’ প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী এই নেতা বলেন, ‘আমার আসনে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে, চার চারবার নির্বাচনে লাঙল বিজয়ী হয়েছে। এবারও বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। কিন্তু, এখনও আমরা নিশ্চিত নই, এখানে লাঙল না নৌকার প্রার্থী হচ্ছেন! এমন অনেক আসন রয়েছে, যেখানে লাঙল জয়লাভ করবে। কিন্তু, পার্টিতো সুযোগই দিচ্ছে না।’

তবে ঢাকা-১ আসনে মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়া সালমা ইসলাম বলেন, ‘জোটের রাজনীতিতে এমন অনেক কিছুই হয়। তা নিয়ে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতি থাকার পরও অল্প আসন পাওয়া কষ্টকর।’

গত ২০ নভেম্বর জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেখানে তারা থেমে থেমে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার স্লোগান দেন। তবে বক্তব্যের সময় এরশাদ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘কোন জোটে যাব, এই সিদ্ধান্ত আমার উপর ছেড়ে দাও। তোমরা জানতো, আমার নামে এখনও মামলা রযেছে।’