রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা এরশাদকে ভয় পায়!

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) ঢাকায় জাতীয় পার্টির বনানীর কার্যালয়ে সংবিধান সংরক্ষণ দিবসের আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, ‘পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একজন বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ। তার দেশ পরিচালনার দক্ষতা ও ক্ষমতা আছে। তাই দেশের মানুষ এখনও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে ফিরে যেতে চায়। দেশের মানুষ এখনও এরশাদকে ভালোবাসেন। কিন্তু যারা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তারা শুধু এরশাদকেই ভয় পায়। কারণ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সঠিক সময়ে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’

জিএম কাদের বলেন, ‘পার্টির চেয়ারম্যান ডাক্তারের পরামর্শেই আছেন। মেডিকেল বোর্ড মনে করলে, তিনি সিঙ্গাপুরেই চিকিৎসা নেবেন। এরশাদ রাজনীতিতে আছেন। তিনিই জাতীয় পার্টি পরিচালনা করছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্তই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিচ্ছেন। স্বাধীনভাবেই তিনি রাজনীতি করছেন এবং দল পরিচালনা করছেন।’

তিনি আরও বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে যারা ক্ষমতা প্রয়োগকারী বলেছে, ‘তারাই প্রধানমন্ত্রী হয়ে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ক্ষমতার সঙ্গে পার্টির প্রধান হয়ে পরবর্তীতে আরও বেশি ক্ষমতা অপব্যাবহার করেছেন। এতে ক্ষমতার ভারসাম্য শেষ হয়ে গেছে। এরশাদের শাসনামলেন নিন্দা যারা করেছেন, তারা বুকের ওপর হাত দিয়ে বলতে পারবেন না, এরশাদ পরবর্তী সময়গুলো দেশের ভালো কেটেছে। এখন মূল্যায়নের সময় এসেছে, এরশাদের শাসনামল নাকি পরবর্তী সরকারগুলোর শাসনামলে দেশ ভালো চলেছে।’

গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পার্টি সাংবাদিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করেছে। এবার আপনারা আমাদের পাশে থাকুন, আমাদের সাহায্য করুন। আমরা লাঙ্গলকে বিজয়ের পথে নিয়ে যেতে চাই।’

পার্টি চেয়ারম্যানের প্রতি জুলুম ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতিকে ১২দিন মাটিতে ঘুমাতে হয়েছে। বিনাবিচারে সাত বছর কারাগারে আটকে রাখা হয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি যারা অবিচার করেছে, আজ তারাই কারাগারে দিন পার করছে। র্যাব দিয়ে যারা মানুষ খুন করেছে, অপারেশন ক্লিনহাটের নামে মানুষ হত্যা করেছে, তারাই আজকে মানুষ খুনের ধুয়া তুলছে।’

জিএম কাদের আরও বলেন, ‘কেউ যদি দলের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে, ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে চায় তা বরদাশত করা হবে না। জাতীয় পার্টি এগিয়ে যাওয়া মানেই দেশের গণতন্ত্র সমুন্নত হওয়া। জাতীয় পার্টি শক্তিশালী হলেই দেশের সংবিধান সুসংহত হয়।’