শিল্পকলায় দর্শনির বিনিময়ে অযান্ত্রিকের শ্রুতি পরিবেশনায় দর্শকদের উপচে পড়া ভীড়

”আমি চির বিদ্রোহী বীর, বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির”। বাঙালির শ্রেষ্ঠ অসির ঝনঝনা ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কে এই আমি। ‘আমি’ কি কবি কাজী নজরুল ইসলামের আপন অস্তিত্ব? অথবা কবি নজরুলের ভাষা দিয়েই হাজার বছরের বঞ্চিত নিপীড়িত মানুষ গেয়ে উঠেছিল শেকল ভাঙার গান?

দৃশ্যশ্রুতি ‘আমিই নজরুল ইসলাম’ মঞ্চে এনে শুভসূচনা করল বাচিক সংগঠন আযান্ত্রিক।
গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমির মূল মিলনায়তনে দর্শনির বিনিময়ে অযান্ত্রিকের দৃশ্যশ্রুতি ও একক শ্রুতি পরিবেশনায় দর্শকদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। ভিন্ন মাত্রার এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানের শেষ পর্যন্ত মিলনায়তন ছিল পরিপূর্ণ।

শুরুতেই ‘নমঃ নমঃ নমঃ বাংলাদেশ মম’ কবিতা ও আবহ সঙ্গীতের সাথে সাথে দর্শকরা মিলনায়তনে প্রবেশ করেন। সংগঠনের পরিচয়পর্ব পড়ে শোনান আবৃত্তিশিল্পী শুভাশীষ শুভ। এরপর দৃশ্যশ্রুতির পর্দা উম্মোচিত হয়। কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহের প্রেরণাকে একাত্তরের স্বাধীনতা ও বিজয়ের গল্পে টেনে এনে সৈয়দ শামসুল হকের অসাধারণ নাট্যসৃষ্টি ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’। নাটকটিকে কবিতা, শ্রুতি ও গানের সমন্বয়ে ‘আমিই নজরুল ইসলাম’ নামে দৃশ্যশ্রুতি আঙ্গিকে উপস্থাপন করে অযান্ত্রিক। ভিন্নমাত্রার এই প্রযোজনার গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী ভাণ্ডারী আরিফ। এতে শ্রুতিশিল্পী হিসেবে অংশ নেন ভাণ্ডারী আরিফ, শুভাশীষ শুভ, লুবাবা ফেরদৌসী সায়কা, চৌধুরী স্বর্ণালী বড়ুয়া, অনিক অভ্র, অপর্ণা রায় এবং শারহান সারোয়ার। এছাড়া আলোকসজ্জায় ছিলেন মঈন উদ্দিন কোহেল। আবহ নিয়ন্ত্রণ করেন সব্যসাচী আচার্য। ৪০ মিনিটব্যাপী এই প্রযোজনা উৎসর্গ করা হয় সদ্যপ্রয়াত বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী রণজিৎ রক্ষিত ও অকালপ্রয়াত দুই আবৃত্তিশিল্পী জোবায়ের জুয়েল ও ফাইরুজ আহমেদকে।

অযান্ত্রিকের নিজস্ব প্রযোজনার পরপরেই মঞ্চে আসেন আমন্ত্রিত অভিনয়শিল্পী ও আবৃত্তি শিল্পী মুবিদুর রহমান সুজাত। সহপাঠে ছিলেন পলি চৌধুরী ববি। সুজাতের অসাধারণ উপস্থাপনে একে একে তিনটি একক শ্রুতি উপস্থিত দর্শকবৃন্দ মন্ত্রমুগ্ধ হয় উপভোগ করেন। অযান্ত্রিকের পক্ষে মুবিদুর রহমান সুজাতকে বিশেষ সম্মাননা-স্মারক প্রদান করা হয়।

অযান্ত্রিকের প্রথম অনুষ্ঠান হিসেবে শ্রুতিশিল্পের এমন গোছানো আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন উপস্থিত জ্যেষ্ঠ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ। তাছাড়া শ্রুতিতে দর্শনির বিনিময়ে দর্শকের ঢল একটি নতুন দিক উম্মোচিত করেছে বলে মতামত ব্যক্ত করেন বিশিষ্টজনেরা।

যান্ত্রিক জীবনের মানুষের ভাবনায় শিল্পীরা কবিতা, নাটক, সংগীত, নৃত্যের মত পাগলামির বশীভূত। কিন্তু ছকবাঁধা জীবন কখনও ইতিবাচক পরিবর্তন আনেনি। সমাজকে এগিয়ে নিয়েছে বিপ্লব, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি, বিজ্ঞান আর স্বেচ্ছাসেবা নামের যত পাগলামিগুলোই। তাই অযান্ত্রিক সংগঠন যন্ত্রজাল ভেদ করে ইটের দেয়ালে সেঁটে দিতে চায় অযান্ত্রিক পোস্টার। ভালবাসা আর প্রত্যাশা সাথে করে এগিয়ে যেতে চায় এই সংগঠনের তরুণ তুর্কিরা।