‘শিলং থেকে আমি সালাহউদ্দিন আহমদ বলছি’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ভারতের শিলং থেকে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে  ‘শিলং থেকে আমি সালাহউদ্দিন আহমদ বলছি’ শিরোনামে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন।তিনি কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

আগামী ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে তিনি এ চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ের কথা তুলে ধরেছেন। পাঠকদের জন্য সালাহউদ্দিন আহমদের সেই চিঠিটি তুলে ধরা হলো-

[su_heading size=”18″]‘শিলং থেকে আমি সালাহউদ্দিন আহমদ বলছি’
প্রিয় দেশবাসী,
আসসালামু আলাইকুম।
প্রীতি ও শুভেচ্ছা রইল। অনেক দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে নির্বাসিত জীবনের বেদনা নিয়ে লিখতে বসেছি। বড় সাধ জাগে মনে, একবার আপনাদের মাঝে আসি; দেশের মাটি স্পর্শ করি; আলিঙ্গন করি আমার দেশবাসীর সাথে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, আজো প্রতীক্ষার সমাপ্তি হলো না। বাংলাদেশের গণমানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নির্জন কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে বন্দী। স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সংগ্রামী পুরুষ, বাংলার গণমানুষের ভবিষ্যৎ কান্ডারী জননেতা জনাব তারেক রহমান আজো নির্বাসনে। এ সবই একই সূত্রে গাঁথা, বর্তমান অবৈধ অনির্বাচিত আওয়ামী বাকশালী স্বৈরশাসক প্রযোজিত ও পরিচালিত দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রেরই অংশ।
সারাবাংলায় বাতাসে আজ লাশের গন্ধ ভেসে বেড়ায়। মাঠে-ঘাটে-প্রান্তরে লাশের ছড়াছড়ি। নদীতে মাছের বদলে লাশ ভেসে ওঠে। গুম, খুন, অপহরণ, ধর্ষণ যেন দৈনন্দিনের নিয়মিত কর্মে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন নামে ক্রসফায়ারের মাধ্যমে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষদের বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মহামারি আকার ধারণ করেছে। নাগরিকদের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সকল সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের অর্থ লুটপাটের মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতকে দেউলিয়া করে দিয়েছে সরকার দলীয় লোকেরা। শেয়ার বাজার লুট করে লাখ লাখ
বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করেছে এ আওয়ামী লুটেরা বাহিনী। মোটকথা দেশে লুণ্ঠনের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন চালু করেছে আওয়ামী লীগ। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে আইনের শাসনকে নির্বাসিত করা হয়েছে। যে দেশে প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের নলের মুখে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয় সে দেশে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়া অলীক স্বপ্ন মাত্র। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে বাক, ব্যক্তি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। নাগরিকের প্রতিবাদের ভাষা কেড়ে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে মানুষের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার, সাংবিধানিক কোনো অধিকার সুরক্ষিত নেই। এভাবেই বর্তমান অনির্বাচিত অবৈধ আওয়ামী সরকার গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছে। মানুষের ভোটের অধিকারকে হরণ করেছে। সমগ্র দেশটাই যেন আজ কারাগারে পরিণত হয়েছে। সংক্ষিপ্ত পরিসরে আওয়ামী দুঃশাসন-নির্যাতন-নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের ইতিহাস গণতন্ত্র হত্যার ইতিহাস।[/su_heading]