ইভিএমে ভোট দেবেন যেভাবে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ছয়টি সংসদীয় আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে নেওয়া হবে ভোট। ছয় আসনের ২১ লাখ ২৪ হাজার ৫৪৪ জন ভোটার এই যন্ত্রের মাধ্যমে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর আগে, ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বল্প পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করা হলেও এবারই প্রথম সংসদ  নির্বাচনে ব্যবহার হচ্ছে ইভিএম।

যেভাবে ইভিএমে ভোট দেওয়া যাবে

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ইভিএমে ভোট দেওয়ার সময় ইলেকট্রিক যন্ত্রের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ, ভোটার নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা স্মার্ট পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভোটার শনাক্ত করা হয়। নির্দিষ্ট কেন্দ্রের ভোটকক্ষে একজন পোলিং অফিসার ভোটার ভেরিফিকেশন বা শনাক্তের কাজটি করবেন।

প্রতিটি ভোটকক্ষে নির্ধারিত ভোটারের জন্য সংরক্ষিত ডাটাবেজে ভোটারের প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ডেটাবেজে ভোটার বৈধ বা অবৈধ কি না, তা প্রজেক্টরের মাধ্যমে শনাক্ত করবেন পোলিং এজেন্টরা। এরপর ভোটার বৈধ হলে মেশিনে কুইক রেসপন্স কোড (QR CODE) এবং কিছু তথ্য সম্বলিত একটি টোকেন প্রিন্ট হবে, যা ভোটারকে দেওয়া হয়। ভোটার টোকেন নিয়ে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছে গেলে ভোটিং মেশিনের QR CODE স্ক্যানারের মাধ্যমে তার টোকেন শনাক্ত করে গোপন কক্ষে থাকা ব্যালট ইউনিটে ব্যালট ইস্যু করা হবে। ভোটার পছন্দের প্রার্থী ও প্রতীক দেখে বাম দিকের বোতামে চাপ দিয়ে Select বা নির্বাচন করবেন। ওই ব্যালট ইউনিটে সবুজ রঙের CONFIRM বোতামে চাপ দিলে তার ভোট দেওয়া হয়ে যাবে।

ভুল প্রতীক Select করলে করণীয়

কোনো ভোটার ইভিএমে ভোট দিতে গিয়ে ভুল প্রতীক Select করলে তা দুইবার বাতিল করে কাঙ্ক্ষিত প্রতীক নির্বাচন করে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ভুল প্রতীক সিলেক্ট করলে ব্যালট ইউনিটের লাল রঙের CANCEL বোতাম চেপে পরে যেকোনো প্রার্থীকে পুনরায় Select করা যাবে। এভাবে একজন ভোটার সিলেক্ট করা প্রতীক দুই বার CANCEL করতে পারবেন। তবে তৃতীয়বার যেটি সিলেক্ট করা হবে, সেটি চূড়ান্তভাবে বৈধ ভোট হিসেবে গৃহীত হবে।

আঙুলের ছাপ না মিললে বিকল্প পদ্ধতি

ইভিএমে ভোট দিতে গিয়ে কোনো ভোটারের আঙুলের ছাপ কিংবা চোখের আইরিশ যদি কোনো কারণে ম্যাচিং না হয়, তাহলে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের মাধ্যমে তিনি ভোট দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ওই ভোটার তার ভোটার আইডি নম্বর নিয়ে গেলে অথবা ভোটার আইডি নম্বর মুখস্থ বলতে পারলে এবং তা সঠিক হলে ভোট কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওই ভোটারের পছন্দ অনুযায়ী প্রার্থীকে ভোট দিয়ে দেবেন। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এভাবে ওই কক্ষের মোট ভোটারের ২৫ শতাংশ ভোট দিতে পারবেন।