যেসব প্রাণী ২০১৮ সালে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে!

প্রাণী

প্রতি বছর আমাদের পরিচিত, কাছের বা দূরের মানুষের মৃত্যু সংবাদ শুনতে হয়। জনপ্রিয় ব্যক্তিদের মৃত্যুতেও শোকাহত হয়ে পড়েন অনেকেই।  কিন্তু আপনি কী জানেন, প্রকৃতিতে এরচেয়েও শোকাবহ এক ঘটনা ঘটে চলেছে প্রতি বছর? ২০১৮ সালেও প্রকৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে অনেকগুলো প্রাণী প্রজাতি। মানে ওই প্রজাতির আর একটি সদস্যও বেঁচে নেই প্রাকৃতিক পরিবেশে।

অ্যানিমেশন মুভি ‘রিও’ হয়তো অনেকেই দেখেছেন। এই মুভিতে থাকা নীল রঙের পাখিটির নাম স্পিক্স’স ম্যাকাও। তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে ২০১৮ সালে।  শুধুমাত্র ১০০ টি পাখি বেঁচে আছে খাঁচাবন্দী অবস্থায়।

ম্যাকাওয়ের পাশাপাশি একইভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে আলাগোস ফলিয়েজ-গ্লিনার, ক্রিপ্টিক ট্রিহান্টার ও পু-উলি পাখিগুলো।  এদের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পিছনে মূলত মানুষের কাজকর্মই দায়ী।  এসব প্রাণী প্রজাতিকে সংরক্ষণের চেষ্টা বাড়ানো না হলে বিলুপ্তি চলতেই থাকবে আশঙ্কাজনক হারে।

২০১৮ সালে বিলুপ্ত হয়ে যায় ইস্টার্ন কুগার নামের এক ধরণের শ্বাপদ।  পৃথিবীর শেষ পুরুষ নর্দার্ন হোয়াইট রাইনো প্রজাতির গন্ডারটি মারা যায় এ বছরে।  ওই প্রজাতির কেবল দুইটি নারী গন্ডার বেঁচে আছে বর্তমানে।  এছাড়া ভাকিতা প্রজাতির পরপয়েজ (একধরণের শুশুক) বেঁচে আছে মাত্র ১২টি। এরাও দ্রুত বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

২০১৭ সালে আবিষ্কৃত হয় টাপানুলি ওরাংওটাং, ইতোমধ্যেই তারা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি ‘লিভিং ফসিল’ নামের চাইনিজ গ্রেট সালামান্ডার ধরনের গিরগিটি, যারা ডায়নোসরের সময় থেকে পৃথিবীতে আছে, এরাও বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পথে। অর্থাৎ, ২৫০ মিলিয়ন বছর ধরে ঝড়-ঝাপটা সহ্য করে টিকে গেলেও মানুষের কারণে তারা বিলুপ্ত হয়ে পড়ছে।  অনেক হাঙ্গর ও রে মাছও বিলুপ্তির পথে হাঁটছে।

চিড়িয়াখানায় গেলে যে প্রাণীটাকে একবার হলেও দেখা হয়, সে হলো লম্বা গলার জিরাফ। অতিচেনা এই প্রাণীটাও বিপন্ন প্রাণীর খাতায় চলে গেছে।  লেমুররা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, পোকামাকড় খুবই সমস্যায় আছে।  কমলার ওপর কালো ডোরাকাটা যে প্রজাপতিকে আমরা সবাই চিনি, তাদের ৯৭ শতাংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ইতোমধ্যেই।  পোকামাকড় পছন্দ করেন না অনেকেই। কিন্তু এরা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে সারা পৃথিবীতে আর ফসল ফলবে না, গাছে ফল ধরবে না, খাদ্য সংকট প্রকট হয়ে উঠবে, তা ভেবেছেন কখনো?

তবে এত দুসংবাদের মাঝেও রয়েছে আশার আলো। ২০১৮ সালে মাউন্টেইন গরিলারা বিপন্ন প্রজাতি থেকে নিরাপদ অবস্থানে ফিরে এসেছে। চাদ প্রজাতন্ত্রে প্রায় ৫০ বছর পর দেখা গিয়েছে ওয়াইল্ড ব্ল্যাক রাইনো প্রজাতির গন্ডার।  তিন দশক বিলুপ্ত মনে করার পর আবার দেখা গিয়েছে স্যান কুইনটিন ক্যাঙ্গারু র‍্যাটকে। আর মেক্সিকান একদল নানের তৎপরতায় বিলুপ্তি থেকে বেঁচে গেছে দুরলভ লেক পাৎজকুয়ারো প্রজাতির সালামান্ডার।

সূত্র: আইএফএলসায়েন্স 

আরও পড়ুন।