শিশু নুসরাত-ফারিয়া হত্যার ঘটনায় মামলা

মঙ্গলবার সন্ধার পর রাজধানীর ডেমরায় দুই শিশু হত্যার ঘটনায় হত্যা মামলা (মামলা নং ১২) দায়ের করেছেন শিশু নুসরাতের বাবা মো. পলাশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডেমরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুম খান।

আজ দুপুরে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই শিশুর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতালটির ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক নওশাদ মাহমুদ জানান, দুই শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে। তবে তাদের হত্যার পূর্বে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে এখনও কিছু বলা যাচ্ছে না। সেটা জানতে যাবতীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

ডেমরা থানার পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) নূরে আলম বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন মোস্তফার স্ত্রী ও শ্যালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। পলাতক মোস্তফাকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি, তবে তাকে ধরতে অভিযান চলছে।’

তিনি বলেন, ‘যে বাসায় শিশুদের লাশ পাওয়া গেছে, সেই বাসার গৃহকর্তা মোস্তফা। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রী। ঘটনার পর থেকেই মোস্তফা পলাতক রয়েছেন। তার স্ত্রীর কাছ থেকে জানা গেছে মোস্তফা মাদকসেবী ছিলেন। তাকে পাওয়া গেলেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।’

যদিও ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন মোস্তফাকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোস্তফার স্ত্রী ও শ্যালককে আটক করে মঙ্গলবার ডেমরা থানায় নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সোমবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর ডেমরা থানার কোনাপাড়া এলাকার শাহজালাল রোডের একটি বাসা থেকে নুসরাত জাহান (৪) এবং ফারিয়া আকতার দোলা (৪) নামে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা শাহজালাল রোডে টিনশেড ও পাকা ভবনের পৃথক দুটি বাসায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতো।

নিহত দোলার চাচা রাশেদুল ইসলাম জানান, ‘সোমবার দুপুরে দোলা ও নুসরাত খেলতে খেলতে হারিয়ে যায়। তাদের খুঁজতে এলাকা জুড়ে মাইকিং করা হয়। পাশাপাশি ফেসবুকেও ফোন নম্বর ও ছবি দিয়ে প্রচারণা চালানো হয়। মাইকিং শুনে এক যুবক জানান, স্থানীয় মোস্তফা দুপুরের পর শিশু দুটিকে নিজের ঘরে নিয়ে গেছেন। পরে ওই যুবকের তথ্যের ভিত্তিতে মোস্তফার খালাকে সঙ্গে নিয়ে তার ঘরে গিয়ে দুই শিশুকে পড়ে থাকতে দেখি। এ সময় মোস্তফা যাতে ঘর থেকে বের হতে না পারে সে জন্য তার খালা বাইরে থেকে তালা দিয়ে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। কিন্তু ততক্ষণে কৌশলে পালিয়ে যায় মোস্তফা।’