১৮৩ আসনের ‘ভোট কারচুপির’ তথ্য নিয়ে বিএনপির প্রতিবেদন

শুক্রবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধানের শীষের ১৮৩ আসনের প্রার্থী একাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘অনিয়ম’ ও ‘ভোট কারচুপির’ তথ্য নিয়ে তৈরি প্রতিবেদন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি আগে ও পরে এবং ভোটের দিন যেসব নেতাকর্মী গ্রেফতার, সহিংসতায় আহত ও নিহত হয়েছেন তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এই প্রতিবেদনে নির্বাচনের আগের রাতে এবং ভোটের দিন যেসব ভোট কেন্দ্রে ‘অনিয়ম’ ও ‘ভোট কারচুপি’ হয়েছে তার ভিডিও এবং লিখিত বর্ণনাও রয়েছে প্রতিবেদনে। তবে ঢাকার বেশিরভাগ আসনের প্রার্থীরা এখনও প্রতিবেদন জমা দেননি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৮৩ আসনের প্রার্থীরা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। ঢাকার ২০ আসনের মধ্যে ১৮টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এসব আসনের মধ্যে মাত্র তিনটির প্রতিবেদন জমা পড়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৮৩ প্রার্থী প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। ডাকযোগে চিঠি পাঠানোর কারণে অনেক প্রার্থী দেরিতে চিঠি পেয়েছেন। এ কারণে সব প্রার্থী এখনও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। আশা করি, দু-এক দিনের মধ্যে সবাই জমা দেবেন।’

সূত্র মতে, বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সব প্রতিবেদন জমা হলে তার ওপর ভিত্তি করে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এ ছাড়া যেসব ভিডিওচিত্র জমা পড়েছে তা একসঙ্গে করে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করা হবে। এরপর সংবাদ সম্মেলনে করে তা গণমাধ্যমে তুলে ধরা হবে। ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের কাছেও তুলে ধরা হবে বিষয়গুলো। দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলোকেও জানানো হবে।

এ প্রসঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সব আসনেই ধানের শীষের প্রার্থীরা মামলা করবেন। যেসব আসনে আমাদের প্রার্থীরা জিতেছেন সেখানকার পরিস্থিতি তুলে ধরেও মামলা করা হবে। নির্বাচন প্রহসনের কথা, কারচুপির কথা সবাই জানেন। আগামী ১৮ দিনের মধ্যে মামলা করা হবে।

উল্লেখ্য, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ২৮১ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। বিএনপি ছাড়াও এর মধ্যে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলের প্রার্থীও ছিলেন। ধানের শীষ নিয়ে ৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে জয়লাভ করেন। যদিও বিজয়ীরা শপথগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।