প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগঃ কি ভাবে নিবেন প্রস্তুতি

প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রাতঃসমাবেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ 

শিক্ষকতা মহান পেশা। অনেকে ভাল শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা থেকে শিক্ষাকতাকে পেশা হিসেবে বেঁচে নেন। একজন ভাল শিক্ষক সমাজের চোখে সব সময় সম্মানের পাত্র। এক জন শিক্ষার্থীর জীবনে মৌলিক ভিত তৈরি করে দেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হৃদয়ে তাদের স্থান হয়।

সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তিন পার্বত্য জেলা ব্যতীত সকল জেলায় শিক্ষক নিয়োগের  বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ৩০ আগস্ট শেষ হয়েছে আবেদন করার সময়সীমা। অনেক পরীক্ষার্থী দীর্ঘ দিন ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার জন্যে নিয়োগের অপেক্ষা করছেন তাদের জন্যে এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেশ২৪ এর পড়াশোনায় আজকে থাকছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তুতি।

কেমন পরীক্ষা হবে?  

প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের দুই ধাপে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে হবে। প্রথম ধাপে ৮০ নাম্বারের লিখিত পরীক্ষা এবং ২০ নাম্বারের মৌখিক পরীক্ষাসহ মোট ১০০ নাম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে।

প্রশ্নের ধরণঃ

লিখিত পরীক্ষা হবে বহু নির্বাচনী বা এমসিকিউ পদ্ধতিতে। বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান  ৪টি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে। প্রতিটি বিষয় থেকে ২০টি করে মোট ৮০টি এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান হবে ১। ভূল উত্তরের জন্যে ০.২৫ কেটে নেওয়া হবে। প্রতি ৪ টি ভূল উত্তরের জন্যে ১ নাম্বার কাটা যাবে। তায় উত্তর দিতে অবশ্যয় সাবধান থাকবেন। প্রশ্ন সাধারণত আগের প্রশ্নের মতোই হবে। পরীক্ষায় ভাল করতে চাইলে বিগত পরীক্ষার প্রশ্ন গুলো ভাল ভাবে দেখে নিন। আগে লিখিত পরীক্ষায় মাধ্যমিক, বিশেষ করে ক্লাস ৮ থেকে প্রশ্ন করা হলেও এখন উচ্চমাধ্যমিক থেকেও প্রশ্ন থাকতে পারে। তায় শিক্ষক হতে চাইলে অবহেলা করা যাবে না। সুযোগ বার বার পাওয়া যায় না, সময়ও কারো জন্যে অপেক্ষা করেনা। সময় সুযোগ থাকতেই স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে যান।

সময়ঃ 

লিখিত পরীক্ষার সময় থাকবে ৮০ মিনিট। অর্থাৎ প্রতিটি প্রশ্নের জন্যে ১ মিনিট করে সময় পাবেন। সঠিক সময়ে সঠিক উত্তর দেওয়াও এক প্রকার পরীক্ষা। তায় একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে যেমন বেশি সময় নেওয়া যাবে না ঠিক তেমনি তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে ভূল উত্তর দেওয়া যাবে না।

 মৌখিক পরীক্ষাঃ

লিখিত পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবে কেবল তারায়  মৌখিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে।  মৌখিক পরীক্ষা হবে ২০ নাম্বারের। ২০ নম্বরের মধ্যে ৫ নম্বর থাকবে শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য, ৫ নম্বর থাকবে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব প্রকাশের ক্ষমতার ওপর। বাকি ১০ নম্বর থাকবে সাধারণ জ্ঞানের ওপর। মৌখিক পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞানের জন্য প্রার্থীর নিজ জেলার থানা বা উপজেলার আয়তন, জনসংখ্যা, সংস্কৃতি, জেলার ইতিহাস, রাজনীতি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা থাকলে ভালো করতে পারবে।

সম্ভাবনাঃ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকদের সম্ভাবনার অনেক দুয়ার খোলা আছে। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকলে বিভাগীয় পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের মাধ্যমে সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসারে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও হতে পারেন।

বসে না থেকে পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করে দিন। আপনিও হতে পারেন একজন গর্বিত শিক্ষক।