ভার্জিন মেয়েরা সিল করা বোতল বা প্যাকেটের মতো : অধ্যাপক কনক

ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কনক সরকার ‘ভার্জিন মেয়েরা ছিপি আটকানো বোতলের মতো’ এমন বিতর্কিত মন্তব্য করে বরখাস্ত হয়েছেন। সম্প্রতি ফেসবুকে মহিলাদের ভার্জিনিটি নিয়ে একটি পোস্ট দেন অধ্যাপক কনক সরকার।

তিনি সেখানে বলেন ‘ভার্জিন মেয়েরা সিল করা বোতল বা প্যাকেটের মতো। আপনি কী সিল ভাঙা কোল্ড ড্রিঙ্কের বোতল কিনতে চাইবেন?’ সেখানে ২০ বছর ধরে কলেজে শিক্ষকতা করা এই অধ্যাপক আরও বলেন, ‘ভার্জিন স্ত্রী হলো হুরের মতো।’

অধ্যাপক কনক সরকারের ফেসবুক স্ট্যাটাস। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা শুরু হতেই পোস্টটি ডিলিট করে দেন কনক। ডিলিট করে দেওয়া সেই পোস্টের ছবি প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ‘ইন্ডিয়া টুডে’।

আরও পড়ুন: ধর্মত্যাগী সৌদি কিশোরী নাম পরিবর্তন করলেন নিজের

মূলত উত্তরবঙ্গের বাসিন্দা কনক যাদবপুরে পড়াতে শুরু করেন ন’য়ের দশকের শেষে। আর্ন্তজাতিক সম্পর্কের সেই সময়ের পড়ুয়া অনিন্দ্য দাশগুপ্ত বলেন, ‘ক্লাসে প্রায় রোজই উনি আপত্তিকর মন্তব্য করতেন। প্রথম প্রথম প্রতিবাদ হত, কিন্তু হাজার বলা সত্ত্বেও উনি বদলাতেন না। কাঁহাতক আর একটা লোকের পিছনে পড়ে থাকা যায়! তাই ইগনোর করতাম।’

আরও পড়ুন: সহপাঠিনীকে ধর্ষণের চেষ্টা, ধর্ষককে ধ’রে থানায় দিল স্কুল শিক্ষার্থীরা

অনিন্দ্য আরিও বলেন, ‘পাশ করে যাওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়রদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। শুনতাম, উনি একই রকম রয়ে গিয়েছেন। ফেসবুকে আসার পর তো প্রকাশ্যেই একের পর এক কুরুচিপূর্ণ, সেক্সিস্ট মন্তব্য করতে শুরু করলেন। প্রথম প্রথম সেসব নিয়ে অনেকে সরব হতেন। কিন্তু উনি পাত্তাই দিতেন না। ফলে ফেসবুকের প্রতিবাদও থিতিয়ে এল। সবাই প্রায় ধরে নিয়েছিল উনি এমনটাই করবেন। কিন্তু এই পোস্টে দেখলাম আচমকা বাঁধ ভেঙে গেল।’

এসইউসি প্রভাবিত অল বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন বা আবুটার যাদবপুরের নেতা গৌতম মাইতি বলেন, ‘যে অতীব জঘন্য মন্তব্য উনি করেছেন, আমরা তাকে ধিক্কার জানাই। এমন মন্তব্য বিকৃত পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার প্রকাশ।’

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র আকাশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আগেও বহুবার কনকবাবুর এই ধরণের মন্তব্য নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে। কিন্তু ফল মেলেনি। আশা করি এবার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

এর আগে ২২ ডিসেম্বর আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, ‘বিয়ের আগে ভার্জিন থাকলে একটা মেয়ের গর্ব করা উচিৎ, সেটা সেলিব্রেটও করা উচিৎ।’

এইসব পোস্টের কারণে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি। শুরু হয় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। দ্রুত ব্যবস্থাও নিয়েছে কর্তৃপক্ষ

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস জানান, অভিযুক্ত অধ্যাপক আর ক্লাস নিতে পারবেন না এবং ক্যাম্পাসেও ঢুকতে পারবেন না।