সিলেটের রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত!

সিলেট বিএনপির তিন নেতা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। একাদশ সংসদ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার পর  বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে যখন ক্ষোভ আর হতাশা তখন সেই হতাশার আগুনে যেন ঘি ঢাললেন সিলেটের এই ৩ বিএনপি নেতা। যদিও অনেকে এটাকে রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত বলেও দাবি করছে। 

নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান নির্বাচনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী  শফি আহমদ চৌধুরী এবং  বিএনপির প্রার্থী হয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তাঁরা উভয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।অনেকে শফি চৌধুরীর দেখা করার বিষয়টিকে ইনাম চৌধুরীর ঘটনার সাথে মেলাতে চাইছেন আবার অনেকে নিচ্ছেন স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে।

বুধবার গোয়াইনঘাটে নিজ এলাকায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন- বিএনপির হয়ে নির্বাচিত গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আব্দুল হাকিম।

নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করার পরেও মন্ত্রীদের সাথে বিএনপির এই তিন নেতার শুভেচ্ছা বিনিময়কে ভালোভাবে নিতে পারছেন না।  এ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বিএনপির অনেকেই তাদের ক্ষোভের কথা প্রকাশ করছেন। যদিও তিনজনই এটার সাথে রাজনীতি মেলাতে নারাজ। তাদের কেউ এটাকে বলছেন কর্তব্যবোধ এবং কেউ বলছেন পারিবারিক সম্পর্কের কথা।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদের সাথে দেখা করা জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আব্দুল হাকিম বলেন- ‘আমি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আর বুধবার ছিল উপজেলা প্রশাসনের একটা সভা। যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ। ওই সভায় মন্ত্রী মহোদয়কে স্বাগত জানিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এটা শুধু দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ থেকে। এর বাইরে ব্যাক্তিগতভাবে উনার সাথে আরো কোনো কথা হয়নি। এটা নিয়ে রাজনীতি করা কিংবা দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই।’

এদিকে বুধবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর ধোপাদিঘীর পূর্বপাড়স্থ ড. মোমেনের বাসভবন হাফিজ কমপ্লেক্সে গিয়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি নেতা সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

সিটি মেয়রের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়- এসময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হওয়ায় তিনি ড. এ কে আবদুল মোমেনকে অভিনন্দন জানান। এছাড়া সিটি মেয়র বিগত সময়ে নগর উন্নয়নে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সহযোগিতার কথা তুলে ধরে তিনি আগামী দিনেও সিলেট নগরীর উন্নয়ন নিয়ে ড. মোমেনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

আরও পড়ুন: নতুন এমপিদের শপথের বৈধতার রিট। 

বিষয়টি নিয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন- ‘ঘটনাটি আমিও জেনেছি। এরপর শফি সাহেবের সাথে আমার ফোনে কথা হয়েছে এবং সকালে দেখাও হয়েছে। তিনি আমাকে বলেছেন যে- মোমেন সাহেবের ভাইয়ের সাথে তাঁর ভাল সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের কারণেই দেখা করতে গিয়েছেন। আর কি কথা হলো তা বলেননি।’

এতে বিএনপির সাংগঠনিক ক্ষতি হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আলী আহমদ বলেন- ‘মূলত সৌজন্যতাবশত সাক্ষাৎ। এখন বিষয়টিকে কে কিভাবে নেবে তা বুঝতে পারছি না।’ দলীয় নেতাকর্মীদের উপর ‘হয়রানিমূলক’ মামলা নিয়ে কথা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- ‘দেখা হয়েছে যেহেতু, বলতেও পারেন। তবে পুরো বিষয়টি জানি না।’

বিষয়টা নিয়ে যখন পুরো সিলেটে তোলপাড় তখন গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে ঘটনার বিষয়ে পরিস্কার করেছেন শফি আহমদ চৌধুরী। বিবৃতিতে তিনি জানান, সৌজন্য সাক্ষাৎ কিংবা রাজনৈতিক কোন ফায়দা লাভের উদ্দেশ্যে আমি মোমেনের বাসায় যাইনি। সিলেটের একজন মন্ত্রী হিসেবে আমি তার কাছে গিয়েছিলাম যাতে নির্বাচনের জের ধরে আমার যেসব নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং আমার যেসব নেতাকর্মী এখনো কারাগারে বন্দী আছে তাদের যেনো ছেড়ে দেওয়া হয়। এসব অনুরোধ করতেই আমি তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম।’