চলছে শ্রমিক ছাঁটাই, মামলার আসামি হাজার

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবীতে আন্দোলন করার প্রেক্ষিতে তিন শতাধিক শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে বিভিন্ন কারখানার কর্র্তৃপক্ষ। ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৯২ জনের নাম উল্লেখসহ নয় শতাধিক শ্রমিকের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করেছেন মালিকরা।

কারখানার কর্র্তৃপক্ষ ছাঁটাই করা শ্রমিকদের ছবিসহ তালিকা ঝুলিয়ে দিয়েছে কারখানার ফটকে। এদিকে ভাঙচুরের অভিযোগে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা জয়নাল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আশুলিয়া থানার ওসি শেখ রিজাউল হক বলেন, এসব মামলায় এখন পর্যন্ত সাত-আটজন গ্রেপ্তার আছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর মধ্যে কারখানায় ভাঙচুরসহ মারধরের ঘটনায় ক্ষতি, চুরি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে গত ১০ জানুয়ারি ৫৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০০ শ্রমিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা (১৭) করেছেন মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইং মিলস লিমিটেডের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আবদুস সালাম। পরদিন এআর জিন্স প্রডিউসার লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহ আজিজ বাদী হয়ে ৬২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

গত সোমবার পর্যন্ত টানা আট দিনের শ্রমিক অসন্তোষের পর তা দমনে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার থেকে তৈরি পোশাক শ্রমিকরা কাজে ফিরেছে। কিন্তু বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের ছাঁটাইও শুরু হয়েছে।

এসব তালিকায় তিন শতাধিক শ্রমিকের নাম রয়েছে। এ সময় প্রায় ১০টি কারখানায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার নোটিস ঝুলতে দেখা গেছে।

টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, আন্দোলন ছাড়া কোনো দাবি আদায় হয় না। তাই শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করে থাকে। শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় যারা নাশকতাকারী এবং ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কোনো নিরপরাধ শ্রমিক যেন ছাঁটাইয়ের শিকার না হয় সে বিষয়ে কর্র্তৃপক্ষকে খেয়াল রাখতে হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মো. মশিউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিকদের সংগঠিত করে উত্তরা, দক্ষিণখান ও বিমানবন্দর এলাকার বিভিন্ন গার্মেন্টে হামলা, ভাঙচুর ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর আগে তিনটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করলেও তিনি বরখাস্ত হন।