মেয়ের সঙ্গে আমাকেও হত্যা করা হোক : ধর্ষিত মেয়ের বাবা

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের র‍্যামবান জেলার রামসোতে ১২ বছর বয়সী কিশোরীকে গণধর্ষণ করে স্থানীয় এক বখাটে। যাযাবর মুসলিম গোষ্ঠীর ওই কিশোরী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এ ঘটনায়। তবু দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও এ ঘটনার বিচার চেয়ে পাননি ধর্ষিতার বাবা দুমান শাহ।

দুমান শাহ বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে যা ঘটেছে, তার কি কোনো বিচার বিশ্বে নেই? আমি বলি, যদি ন্যায়বিচার না থাকে, মেয়ের সঙ্গে আমাকেও হত্যা করা হোক।’

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি অসুস্থ হয়ে পড়ে সেই কিশোরী। এরপর জম্মুর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা জানান, সে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পাঁচ দিনের চিকিৎসা শেষে তাকে পরিবার বাড়ি নিয়ে আসা হয়।

ধর্ষিতার আত্মীয় আব্দুল গণি চৌধুরী হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিন মাস আগে ওই কিশোরী পশু চরাতে মাঠে যায়। এ সময় তারই গ্রামের ৫ হিন্দু যুবক এসে ঘিরে ধরে। পরে এদের একজন তাকে ধর্ষণ করে। সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এরপর ক’জন তাকে ধর্ষণ করেছে, তা তার জানা নেই। জ্ঞান ফিরলে ওই বখাটেরাই এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে এবং পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেয়।’

আব্দুল গণি বলেন, ‘এরপর সে ঘটনা আর কাউকে বলেনি। কয়েকদিন আগে অসুস্থবোধ করলে ওই পাঁচজনেরই একজনকে সে বিষয়টি জানাই। এরপর সে কিছু ওষুধ দেয়, যা খেয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।’

তিনি বলেন, ‘দুমান শাহর পরিবার গরিব এবং অশিক্ষিত। তারা এটা হয়তো বুঝতে পারেনি। এরপর মেয়েকে নিয়ে তিনি স্থানীয় হাসপাতালে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা শ্রীনগরে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য পাঠান।’

৪ জানুয়ারিই ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে মামলা করেন। ইতোমধ্যে গ্রামের গাজা সিংয়ের ছেলে সঞ্জু সিংকে গ্রেপ্তার করেছেন।

ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হওয়ার এলাকাবাসী ফুঁসে ওঠে এবং গতকাল বুধবার তারা শ্রীনগর-জম্মু মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোখ করেন। তারা ধর্ষকদের বিচার দাবি করেন।

র‍্যামবানের এসপি অনিতা শর্মা জানান, ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গ্রামের ওই এলাকার ২০-৩০ ঘর মানুষের মধ্যে ওই কিশোরীর পরিবারই একমাত্র মুসলিম।