ফটিকছড়ির দুই তরুণ লেখকের গ্রন্থসন্ধ্যা

ফটিকছড়ি উদীয়মান কবি মুহাম্মাদ সামস্ উদ্দিন টনির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘শূন্যস্থান’ এবং তরুণ কথা সাহিত্যিক তকিব তৌফিকের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অধ্যায়’ এর মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে গতকাল বুধবার (১৬ই জানুয়ারি) রাতে ফটিকছড়ি জে. ইউ. পার্ক কমিউনিটি সেন্টারে এক মনোরঞ্জন গ্রন্থসন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।
‘গ্রন্থসন্ধ্যার এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফটিকছড়ি পৌরসভা’র মেয়র জনাব আলহাজ্ব মোঃ ইসমাইল হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, তারুণ্যের আলোকবর্তিকা, সদস্য- ১৩ নং লেলাং ইউনিয়ন পরিষদ, সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান জনাব মোঃ সরোয়ার হোসেন, প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রেখেছেন বিশিষ্ট লেখক-গবেষক, গীতিকার, ফটিকছড়ি সরকারি কলেজেরর অধ্যাপক জনাব মোঃ জয়নাল আবেদীন পাঠান। এছাড়া মোড়ক উম্মোচক হিসেবে ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব মোঃ ফেরদৌস হোসেন।
এতে আমন্ত্রিত মেহেমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যক্ষ সেলিম জাহাঙ্গীর, এন .এম রহমত উল্লাহব, আনোয়ারুল ইসলাম, মাও দৌলত আলী খান, সিকান্দার মাস্টার, মোঃ আজিজুল হক, মোঃ মোস্তফা কামাল,মোঃ হাসানুল মোস্তফা, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-নোমান সবুজ ও সাংবাদিক ইখবাল হোসেন, মঞ্জুর মোরশেদ প্রমুখ।
গ্রন্থসন্ধ্যার আলোচনায় কথা সাহিত্যিক তকিব তৌফিক তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে তরুণদেরকে বই পড়ার দিকে আহ্বান জানান। এছাড়া লেখক সামস্ উদ্দিন টনি বলেন, কবিতা চর্চা বড় সাধনা, তা অভ্যাসে পরিণত হওয়া উচিত।
তকিব তৌফিকের উপন্যাস ‘অধ্যায়’ গ্রন্থটি প্রকাশ করে নালন্দা প্রকাশনী। প্রচ্ছদ করেছেন প্রচ্ছদশিল্পী হিমেল হক। নামলিপি করেছেন ফুয়াদ শেখ৷ বইটি গ্রন্থমেলা ২০১৯ এ নালন্দা প্রকাশনী প্যাভিলিয়নে পাওয়া যাবে। এছাড়া ঢাকা চট্টগ্রাম এর বাতিঘরে থাকবে বইটি। আর দূরদূরান্তের পাঠকের জন্য রকমারি.কম, বইবাজার৷ বইহাট, বইউৎসব এর মতো বিভিন্ন অনলাইন বুকশপ ভূমিকা রাখছে।
মুহাম্মাদ সামস্ উদ্দিন টনি’র কাব্যগ্রন্থ ‘শূন্যস্থান’ প্রকাশ করেছে নীরব প্রকাশনী। বইটি গ্রন্থমেলা ২০১৯ এ নীরব প্রকাশনীর স্টলে থাকবে এবং সকল অনলাইন বুকশপে পাওয়া যাবে।
‘অধ্যায়’ এর ফ্ল্যাপ থেকেঃ-
মানুষের জীবন একটি বিচিত্র সমগ্র। জীবনে ঘটে যাওয়া বিচিত্র সব ঘটনানির্ভর অদ্ভুত সব অধ্যায় দিয়ে’ই এই জীবনসমগ্র সাজানো থাকে। যার শুরু থেকে শেষ অবধি জড়িয়ে থাকা অধ্যায়গুলোয় জুড়ে থাকে জীবনের নানান ঘটনা। কখনো আবেগ আর মায়া জড়ানো, কখনো আবার ভয়ঙ্কর নিশ্চুপ আহাজারির নিদর্শন। প্রতিটি অধ্যায়ে ফুটে থাকে মানুষের জন্মলগ্ন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তের কথন। সেখানে অনুভূতিরা বিচরণ করে বেখেয়ালি ভাবে, আবেগ ছুটে মরিয়া হয়ে এইখান থেকে সেইখানে; সর্বত্র।
কখনো কখনো আবার জীবনসমগ্রের কোনো এক অধ্যায়ে ভালোবাসা ধারণ করে মাহামারী আকারে। কেবল অফুরান ভালোবাসা’ই যেনো সর্বার্থ। সবকিছুতেই যেন ভালোবাসার উপস্থিতি অনিবার্য। কিন্তু দায়িত্বের বেড়াজালে যখন নিজেকে বিসর্জন দিতে হয় তখন জীবনসমগ্রের অতীত অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে নতুন এক অধ্যায়কে বরণ করে নিতে হয়। কৃত্রিমতায় ভরা সত্য হাসির অবয়বে মিথ্যা হাসিতে। যেখানে অনুভূতি, আবেগ আর ভালোবাসা সব যেন সীসার বেষ্টনীতে গড়া কঠিন ধাতব সিন্ধুকে ভরে অথৈ সমুদ্রজলে ডুবিয়ে দেয়া আবশ্যক। ভেসে চলে যাবে। কোথায় যাবে, কতদূর যাবে তা জানবার কোনো উপায় থাকে না। তবুও ভাগ্যের রোষানলে পড়ে যদি সেই সিন্দুক তীরে ভিরে, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। অনেক আবেগ আর ভালোবাসা তখন গুপ্তধন রূপে ফিরে এলে তা কেবলই যেন যাদুঘরে স্থান পাবার যোগ্য; মনের ঘরে নয়। দেখে সুখ নেবার স্বাধীনতা থাকে কিন্তু ছুঁয়ে কিংবা লালন করার স্বাধীনতা থাকে না।
‘শূন্যস্থান’ এর কবিতার অংশঃ-
“যাতনার বৃক্ষ নীরবে কাঁদে,
মুকুলের তাজা প্রাণ অকালে ঝরে-
আর্দ্র পথে স্রোতস্বিনী চলে বেগবান,
থামাও গতি- ছাড়ো অভিমান।”