আ’লীগের মনোনয়ন কিনলেন ২০০১ সালে গণধর্ষণের শিকার পূর্ণিমা

একাদশ সংসদের সরাসরি নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হয়েছে। এখন সংরক্ষিত ৫০টি আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনের তোড়জোড় চলছে।

২০০১ সালের ভোটে বিএনপি-জামায়াত জোটের জয়ের পর ধর্ষণের শিকার হওয়া পূর্ণিমা রানী শীল একাদশ সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরুর দিনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে পূর্ণিমা বলেন, ‘ধর্ষণ বা গণধর্ষণ যা–ই হোক, তা শুধু একটি মেয়ের সঙ্গে হয়। তবে ওই ঘটনার পর থেকে কত প্রকার ও কতভাবে যে ধর্ষণের শিকার হতে হয়, তা শুধু ওই ভুক্তভোগী মেয়েটিই জানে। এ অভিজ্ঞতা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেউ বুঝতেও পারবে না। আমি নিজের নামে একটি ফাউন্ডেশন চালু করেছি। আমার মতো যাঁরা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, আমি তাঁদের পাশে দাঁড়াতে চাই। যদি সুযোগ পাই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়েই ধর্ষণের বিরুদ্ধে কথা বলতে চাই।’

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় যাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায় এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকদের উপর নির্যাতন নেমে আসে। ভোটের পরপরই ৮ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার দেলয়া গ্রামের অনিল কুমার শীলের পরিবারের বাড়িতে হামলা হয়। হামলাকারীরা দলবেঁধে ধর্ষণ করে অনিল শীলের ছোট মেয়ে পূর্ণিমাকে, তখন তিনি দশম শ্রেণিতে পড়তেন। ধর্ষণের শিকার হয়ে প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন পূর্ণিমা।

২০১১ সালের ৪ মে এই ধর্ষণ মামলায় ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করে আদালত। ধর্ষণকারীরা সবাই বিএনপি-জামায়াত জোটের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল।

সেই পূর্ণিমাকে গত বছর তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম তার পার্সোনাল অফিসার পদে নিয়োগ দেন।