বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চাননি ড. কামাল হোসেন : আইনমন্ত্রী

শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনা সভায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন একবারও জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার বিচার চাননি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘একবারের জন্যও তিনি বলেননি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়া উচিত।  তিনি নিজেকে সংবিধান প্রণেতা ও বিরাট আইনজীবী পরিচয় দেন। কিন্তু যার বদৌলতে তিনি এত পরিচিত হয়েছেন, তার হত্যার বিচারের কথা তিনি একবারও বলেন না।’

গণসংবর্ধনায় ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ছবি: সংগৃহীত

আনিসুল হক বলেন, ‘১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুকে পাক হানাদার বাহিনী গ্রেফতার করলো।  আর তাকে (কামাল হোসেন) বগলতলা করে নিয়ে গেলো। তিনি ওইখানে ৯ মাস ভালো কাজ করিয়া, ঘুরিয়া আয় করিয়া থেকে গেলেন।  তারপর বঙ্গবন্ধু তাকে নিয়ে আসলেন। কারণ বঙ্গবন্ধু তাকে স্নেহ করতেন।’

তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্ট যখন বেঈমান-মীরজাফর খুনি মোস্তাক বঙ্গবন্ধুকে আক্রমণ করলেন এবং হত্যা করলেন; তিনি তখন লন্ডন শহরে।  তিনি আর ফেরেন না। তাকে মোস্তাক সাহেবও মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। আবার ১৯৮১ সালে তিনি আওয়ামী লীগের ঘাড়ে ওঠে নির্বাচন করলেন।

ড. কামাল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত 

এ সময় বিএনপির সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এতিমের টাকা চুরির জন্য খালেদাকে ৫ বছরের সাজা দিয়েছেন বিচারিক আদালত। তিনি আপিলে গিয়ে বাঙালিকে হাইকোর্ট দেখালেন। হাইকোর্ট তাকে ১০ বছরের সাজা দিয়েছেন। তার ছেলে তারেক রহমান ২২ জনকে হত্যার কারণে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত। তারেক রহমানকে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।  কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’

প্রসঙ্গত, টানা দ্বিতীয়বারের মতো আনিসুল হক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায়  আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ এক গণসংবর্ধনার আয়োজন করে। সংবর্ধনায় সভাপতিত্ব করেন আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা ও উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পিয়ারা আক্তার প্রমুখ।