তানহিম আহমেদের গুচ্ছ কবিতা : যীশু খ্রিষ্টের প্রতি

হেমন্ত

হেমন্ত এক দিকভ্রান্ত যাযাবর। স্বচ্ছ কুয়াশার
ফাঁকে সে হাঁটে সিন্ধু গ্রিক কিংবা ধ্বংস প্রাপ্ত
মিশরীয় সভ্যতার বুকে। হেমন্ত আমার বাল্য
বন্ধুর নাম।তার বুকে আজ গভীর দুটি ক্ষত।
রুক্ষ পাতা ঝরে পরে— তাদের সাথেই মিশে
যায় কিছু বৎসর মাস এবং মুহূর্ত।

অশ্বত্থ গাছে বাসা বাঁধে অচিন অতিথি পাখি।
তারা প্রত্যেকেই বিভিন্ন সভ্যতা হতে আগত।
সবার বুকে ভিন্ন তরঙ্গ বাজে—খেলে বেড়ায়
ভিন্ন বুনো শিষ। কেউ বুকের মাঝে পুষে তীব্র
তুষারপাত— কিউবা বা সাইবেরিয়া।

হৈমন্তিকা মুক্তির নাম। এখান থেকে পুনরায়
রাজতন্ত্রের উৎস। নগ্ন পায়ে রাজ পথে হাঁটে
দুটি বিশ্বযুদ্ধ আর পথ ভোলা কিছু সফিস্ট।
তাদের হাতেই ঘটবে এ উন্নত নগরীর পতন।
নষ্ট এই সভ্যতার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।


ত্রিয়েস্ত দ্বীপ

…. চারিদিকে পতনমুখী নির্ঝঞ্ঝাট রোদ্দুর
এবং তার সজ্জায় সেজেছে ত্রিয়েস্ত দ্বীপ।
উত্তরের সাদা সারিবদ্ধ মেঘে..ঢেকে গেছে
বলিভিয়ার জঙ্গল। সবুজ রঙ্গা প্রৌঢ় লতা।
ঝোপের আড়ালে সময়..বৃদ্ধ সাপের হাঁটা
চলার শব্দ — গির্জার ঘণ্টা কাঁপিয়ে দিয়ে
ছুটে চলে পূর্বসূরীদের কমতি আয়ু।মানুষ
এখানে সময়ের পূজারী। অষ্ট্রিচ পাখি সব
ব্যস্ত আদম সুমারি গণনায়।শ্বেত পাথরের
ভেতরে চুপি ঢুকে গেছে পরজীবী জীবানু।
নীল’ঘাসে বাজে আশ্চর্য রকমারি ঝংকার
মন্দিরের পাশে বসে আছে ধ্যানমগ্ন ঋষি।
ধীরেধীরে শামুকের বুকে সন্ধ্যে ছবি আঁকে
এবং ঘুমিয়ে পরে গোটা ত্রিয়েস্ত দ্বীপ।


যীশু খ্রিষ্টের প্রতি

তুমি আজ এখানে এসেছো— স্বাগত জানাই
তবে তুমি ভুলে যেও না অনাহারী মানুষদের কথা
প্রতিটি রাত্রিই তাদের কাটে নির্ঘুম ভাবনাহীন
এবং সূর্যদয়ের সাথে সাথে প্রত্যেকে ছিন্ন পাহাড়।
তুমি আজ এখানে এসেছ; কিন্তু আমরা অপারগ
এবং তুমি অসন্তুষ্ট হয়ে আশ্রয় নিলে কুঁড়ে ঘরে।
আজ শত আলোকবর্ষ দূরত্ব পাড়ি দিয়ে তুমি এসেছ
বোকা কালো লোকদের পক্ষ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা
আমরা জানি তুমি তাদের দলে নও, যারা কিনা
মানুষে মানুষে বৈষম্য তৈরি করে, সব ব্যবচ্ছেদে—
তুমি আমাদেরই লোক.. আমাদের দরিদ্রতম একজন।


আকাঙ্খা

স্টেশনের বাইরে চেনা সেই ছেলেটি দাঁড়িয়ে
চোখে লেগে আছে গত রাতের
বাসি স্বপ্নের ভগ্নাংশ
তার কপালে স্পষ্টত চিন্তার গাঢ় ভাজ—
সে এসেছে দুর্গম পথ পেরিয়ে.. হোচট খেতে খেতে
রিক্ত এই জীবন তাকে কিছুই শেখায় নি ;
এমনকি বেঁচে থাকার এক তীব্র আকাঙ্খা ব্যতীত।