নিম্নমানের ভিটামিন ক্যাপসুল কিনতে বাংলাদেশকে বাধ্য করেছিল ভারত

কর্মসূচির ঠিক দুইদিন আগে ক্যাপসুলের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বন্ধ করা হয় এবারের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন।  এরপরই নড়ে চড়ে বসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ক্যাপসুলের মান খারাপ হলে তা শিশুদের খাওয়ানো হবে না।

শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউজে ক্যাপসুলের নমুনা পর্যবেক্ষণ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান। ক্যাপসুলের গায়ে ক্যাপসুল লেগে থাকারও প্রমাণ পান তিনি।

এ সনয় প্রতিমন্ত্রী ক্যাপসুলের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানান, মামলা করে ভারতীয় অখ্যাত কোম্পানির এই ভিটামিন কিনতে বাধ্য করা হয়েছিল।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান বলেন, ‘মামলা করে ভারত ওষুধ দিতে বাধ্য করেছে। লালটা ইন্ডিয়ান কোম্পানি দিয়েছে এটাতেই সমস্যা। নীলটা আমাদের দেশের কোম্পানি যেটাতে কোনো সমস্যা নেই।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘একটা ক্যাপসুলের সাথে আরেকটা ক্যাপসুল গায়ে গায়ে জোড়া লেগে গেছে, এর মানে এই নয় ভেতরে ওষুধের মান নষ্ট হয়ে গেছে। বিষয়টা আমরা নিশ্চিত হবো পরীক্ষার মাধ্যমে, মান সম্মত না হলে আমরা বাতিল করে দেব।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম শামছুজ্জামান তোষার বলেন, ‘আমাদের শিশু মহল যারা জাতির ভবিষ্যৎ তাদেরকে নিয়ে ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে আমি সাধুবাদ জানাই। যেহেতু অনেক কোম্পানির সাথে তুলনা করে ক্যাপসুল কেনার ব্যবস্থা আছে, যেটা রাষ্ট্র সম্মত। সেই অনুযায়ী আইনগত যে বিধি বিধান আছে, সে অনুযায়ী কার্যক্রম চালানো হয় তাহলে সার্থকতা পাবে।’

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী দেশের দুই কোটিরও বেশি শিশুর ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কথা ছিল রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে। তবে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা ও জাতীয় নির্বাচনসহ নানা কারণে তা পিছিয়ে তারিখ নির্ধারণ করা হয় ১৯ জানুয়ারি। ক্যাম্পেইন শুরুর আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্যাপসুলের মান নিয়ে অভিযোগ আসে মন্ত্রণালয়ে।