ধ্বংসস্তূপের মতো মিলায়ে গেছে স্তন | সানজিদা আমীর ইনিসী

জলের প্রেম
~
সবগুলি ইচ্ছারেই আমি করে আছি ধারণ
ফিরা আসছি সমন্বিতদের ভাগাড় থিকা
রাইখা আসছি মালোপাড়ার নাছোড়বান্দা গন্ধদের
ফিরা আসছি আমি লতাগুল্মের নির্জলা মিথ্যার থিকা
নতজানু হইয়া শিয়রে দাঁড়ায়ে একমনে কাঁদলে হয়ত তারা দিত আমারে পিতৃপরিচয়
ভিজা তুলার বালিশে নিথর চুলেদের সঁপে দিয়া আমি হইতাম চির-নিশ্চিন্ত ডাঙাবাসী
আমি থাকতাম এই পাপড়ির মত বিভক্ত সমাজে
যেখানে আগুনের কাছাকাছি গেলে কৃষ্ণাঙ্গদের তাপে মরে জলে ফিরা যাইতে হয়

আমি জলে—
ইচ্ছাদের নিয়া ফিরা যাইতেছি
আমি যেমন আসছিলাম অজ্ঞাত প্রাণ
প্যারাবেন-ফ্রি মুখশ্রীর
সব তরুণ, যারা জীবন চায়, তাদের সাথে তর্কে বিজয়ী হইয়া
তেমন ফিরতেছি জলে
সব আতঙ্করে কালপেঁচায় রাইখা
ফিরতেছি অবসন্ন সময়ে
সাঁতরে যাব ইচ্ছাদের নিয়া
যদি কোনো কূল পাই
যদি আর কেউ জলে দাঁড়ায়ে থাকে তার সাঁতারকে কইরা স্থির
তবে জলে প্রেম হবে অভুক্ত পেটে
তারপর—
নিশানা না পাইলে সময়ের এক বেলায়
ছাড়তে চাই না স্বীয় প্রেমকে— এমন জড়াজড়িতে শেষ নিঃশ্বাসটুকু মিশায়ে দেবো জলে
পইড়া থাকব সমুদ্রে
যেন পইড়া আছে ইচ্ছা
পইড়া আছে উচ্ছ্বাস
নিভা আছে জলের দু-আনার প্রেম।


নিরয়
~
বিস্তর চেয়ে চেয়ে জানিয়াছি সকল
জানিয়াছি এই পৃথিবীতে ঘুমের পরেও
গলাভাঙা ক্লান্তি আছে
আছে মলয়ানিল কালিকা
উদভ্রান্তের মত অনিশ্চিত হাঁইটা যাওয়া আর
দুর্বৃত্তের কড়া আঘাত
এই পৃথিবী কেবল আমার জন্য
আজ ছন্নছাড়া—
সম্বলহীন হইয়া কাঁপতেছে আমারই শিয়রে


উপক্রমণিকা
~
আমি প্রতারকের প্রতি স্নেহ এমনি করেই লুকায়ে রাখি ত্বকের নিচে
যতটুকু তার মা’র মত অকৃত্রিম
যতটুকু তার কাছে খুব স্বাভাবিক
ততটুকু আমি দুই হাত দিয়ে আঁকড়ে রাখি

যেমন ধ্বসে যায় পাহাড় ও পৃথিবী
তেমনই এই পৃথিবীর একান্ত রাত্তিরে ধ্বসে গেছি আমি
সেইদিন আমি গাঁওগ্রামের প্রাচীন মাতম শুনছিলাম
শুনছিলাম তুমুল কান্না আর আওয়াজ ‘কেন হৃদয় খসে যাইতেছে’ ডাকে
ভেসে গেছে জরাজীর্ণ দেহের প্রেমবলয়ের টুকরো
ধ্বংসস্তূপের মত মিলায়ে গেছে স্তন
আর কোমরের নিচ গলে শুরু হওয়া অন্ধকার রাত্তির– তার সিন্ধুর ঢেউ

এতসব ধূলিসাৎ হওয়ার পরেও কিছু আছে স্থান
বাতাস বয়ে গেছে যেখানে
সেখানে থেকে আমি গোপন গভীর প্রেম লুকায়েছি
কেবল আমি ভালোবাসি জন্য

আমি ভালোবাসি তাই
তার নিবন্ধ রাখা আছে আমার ত্বকেরও নিচে
যেমন ক্ষয়ে আছে তোমার প্রেমিক উপক্রমণিকা
তোমার ত্বকেরও নিচে