নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের নির্বাচন ত্রুটিপূর্ণ ছিল : জাতিসংঘ [সংলাপের ইঙ্গিত]

  • আওয়ামী লীগ: ২৫৯, জাতীয় পার্টি: ২০, বিএনপি: ০৬, গণফোরাম: ০২, ওয়ার্কাস পার্টি: ০৩, জাসদ: ০২, বিকল্পধারা: ০২।
  • ‘৮০% ভোটার ভোট দিয়েছে’ প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।
  • ‘৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে একটি-দুটি অনিয়মের ঘটনার ওপর ভিত্তি করে আপনি কীভাবে বলতে পারেন যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি?’ ভোট জালিয়াতির অভিযোগ সম্পর্কে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী।
  • নির্বাচনে জেতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী, ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং ভূটানের রাজা।
  • এবার একটি অভূতপুর্ব নির্বাচন, একটি নিরপেক্ষ, অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, বলছে আওয়ামী লীগ।
  • ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে; সিইসি তাঁর বক্তব্যে পুনর্নির্বাচনের দাবি নাকচ করেছে
  • বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় ১৭জন নিহতের খবর পাওয়া গিয়েছে।
  • কেন্দ্র থেকে প্রার্থী এজেন্টদের বের করে দেয়ার বা ভোট চুরির অভিযোগ করেছেন বিরোধী প্রার্থীরা।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ছবি: সংগৃহীত

শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদফতরে সংস্থায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ সদরদফতরে সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতারেস বাংলাদেশের নির্বাচন স্পষ্টভাবেই ত্রুটিপূর্ণ ছিল বলে মন্তব্য করেন। এ সংকটাবস্থা কাটাতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপের আহবান জানান।  

তিনি বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের নির্বাচন ত্রুটিহীন ছিল না। তাই আমরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্ট সবাইকে অর্থবহ সংলাপে বসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

গুতারেস মনে করেন নির্বাচন পরবর্তী এ অবস্থার স্বাভাবিকায়নে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থবহ সংলাপে বসা প্রয়োজনীয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে যেন ইতিবাচক ফলাফল আনা যায় সেজন্য এই সংলাপ আয়োজন করতে হবে।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপি এবং বিরোধীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও গ্রেফতারের অভিযোগের প্রসঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে নির্বাচন ত্রুটিহীন ছিল না।’

জাতিসংঘ সদরদফতরে সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতারেস। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে বাংলাদেশি সাংবাদিক মুশফিকুল ফজলের প্রশ্ন ছিল, ‘আপনি যেমন জানেন, গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন ভোট কারচুপি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিরোধীদের ধরপাকড়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর বিরোধী দল ওই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বাংলাদেশে স্বাগত জানানো হয়নি এবং তারা করেনি… (নির্বাচন পর্যবেক্ষণ)। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ১৭টি সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে চাইলেও বাংলাদেশ সরকার তাদের অনুমতি দেয়নি। তাহলে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী? পুরো বিষয়টি তদন্ত ও বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আপনি কি কোনো দূত বা বিশেষ কোনো দল পাঠাতে চান?’

গুতিয়েরেসের মুখপাত্র বলেন, ‘ম্যান্ডেট বা অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এমন কোনো তদন্তে আমরা যেতে পারি না।’

এ সময় যদিও জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী সম্পর্কিত ইস্যুতে জাতিসংঘের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলো বাংলাদেশ। দেশটি ভয়াবহ জটিল অবস্থার মধ্যে এত বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার যে উদারতা দেখিয়েছে তার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ। এ সমস্যা রয়ে গেছে। বাংলাদেশের সমস্যা ও জটিল অবস্থার পরেও এটা করা হয়েছে।’

জাতিসংঘ। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে ৩১শে ডিসেম্বর ‘পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি’ শীর্ষক জাতিসংঘের মুখপাত্রের অফিস থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, নির্বাচনী প্রচারণা ও নির্বাচনের দিনে প্রার্থী ও ভোটারদের প্রাণহানি বা আহত হওয়ার ঘটনায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। ১০ বছরের মধ্যে প্রথমবার নির্বাচনে বিরোধীদের অংশগ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানানো হয়েছিল এতে।

বিবৃতিতে সব পক্ষকে (সহিংসতা) থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল, নির্বাচন-পরবর্তী পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে মানুষ সভা সমাবেশ ও মতপ্রকাশ করতে পারে। এতে আরো বলা হয়, নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ও আইনগত উপায়ে তুলে ধরার জন্য আমরা সব দলকে উৎসাহিত করি। এতে আরো বলা হয়, মানুষ ও তাদের সহায় সম্পত্তির ওপর সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে জাতিসংঘের অপারগতার কথা জানানোর আগে জাতিসংঘ মহাসচিব সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়েও একই ধরনের অপারগতা জানান।