‘কর্তৃপক্ষের নির্দেশে’ গাছতলায় সন্তান প্রসব, ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর মিছিল

বর্তমানে আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোতে তিনটি সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে:

  • ডাক্তার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ও ভুল চিকিৎসায় রোগির মৃত্যু।
  • সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই জীবিতকে মৃত ঘোষণা।
  • আইসিইউ ও সিসিইউতে লাইফসাপোর্টের নামে রোগিকে আটকে রেখে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়।

প্রতিদিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা ডাক্তারের অবহেলায় ও ভুল চিকিৎসায় দেশের কোথাও না কোথাও রোগি মারা যাচ্ছে। সিজার করতে গিয়ে নবজাতকের নাড়ী-ভূড়ি বা অঙ্গ কেটে ফেলার খবর। মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বা ভুল ইনজেকশনের কারণে রোগির মৃত্যুর খবর

শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এক গৃহবধূকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল থেকে বের হয়ে গাছের নিচে ছেলে সন্তান জন্ম দেন গৃহবধূ রীনা বেগম (৩০)।

গৃহবধূ রীনা বেগম (৩০)। ছবি: সংগৃহীত

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়লে উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের টনক নড়ে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় হাসপাতালের মিডওয়াইভ নার্স শাবানা বেগমকে শোকজ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ৩ দিনের মধ্যে ওই নার্সকে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই গৃহবধূকে প্রথম বাচ্চা সিজার করায় ছাড়পত্র দেয়। এসময় ওই গৃহবধূর স্বামী জাহিদুল ইসলাম হাসপাতালে ছিলেন না। পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন ছাড়পত্র দেওয়ার খবর পেয়ে তিনি গাড়ি ও টাকা জোগাড় করতে বাজারে ছিলেন।

সূত্র মতে, বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের বালাভিড় গোয়ালপাড়া এলাকার জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী রীনা বেগম। শুক্রবার গভীর রাতে তার প্রসব বেদনা উঠে। শনিবার সকালে তাকে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পরিবারের লোকজন। এরপর দুপুরের দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই গৃহবধূকে ছাড়পত্র দিয়ে পঞ্চগড় অথবা ঠাকুরগাঁওয়ে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেয়। রীনার প্রথম সন্তান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম দেওয়ার কথা শুনে এই পরামর্শ দেওয়া হয়। ছাড়পত্র দেওয়ার পরও ওই রোগী হাসপাতাল ত্যাগ না করায় নার্স শাবানা বেগম তাদেরকে হাসপাতালের বেড ছেড়ে দিতে চাপ দিত থাকেন। কিন্তু স্বামী হাসপাতালে ফিরে না আসায় গৃহবধূ সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। হাসপাতালের বেড ছেড়ে দিতে একাধিকবার চাপ দেওয়ায় বিরক্ত হয়ে ওই গৃহবধূর ননদ রেজিনা তাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসেন। এসময় ব্যাগ-বস্তা নিয়ে হাসপাতাল চত্বরের ইউক্যালিপটাস গাছের নিচে আসলে পুনরায় ওই গৃহবধূ ব্যথা অনুভব করতে থাকেন। এসময় রেজিনা তাকে ওই গাছের নিচে বসিয়ে দিলে সেখানেই একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। বিষয়টি দেখতে পেয়ে হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন কর্মী সোহাগি এসে বাচ্চার নাড়ি কেটে প্রসূতি ও বাচ্চাকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যান

কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হাসপাতালের বাইরে এই গাছের নিচেই সন্তান প্রসব করেন গৃহবধূ। ছবি: সংগৃহীত

ততক্ষণে বিষয়টি স্থানীয়রা ছবি তুলে ও ভিডিও করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় রোগীর লোকজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আফরোজা বেগম রীনা ও বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহমুদ হাসানসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি শুনে তাৎক্ষণিক ওই রোগীকে দুই হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেন। ওই প্রসূতির পরিবারসহ স্থানীয়রা দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।

প্রসূতি রীনা বেগম বলেন, ‘ছাড়পত্র দেওয়ার পর আমি আমার স্বামীর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু নার্স শাবানা আমাকে ও আমার ননদকে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করেন। নিরুপায় হয়ে আমি ও আমার ননদ রেজিনা আক্তারকে নিয়ে হাসপাতালে বাইরের একটি গাছের নিচে আশ্রয় নেই। সেখানেই সন্তান প্রসব হয়।’

রীনা বেগমের স্বামী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ছাড়পত্র দেওয়ার কথা শুনে আমি টাকা ও গাড়ি জোগাড় করতে বাজারে ছিলাম। আমার অনুপস্থিতিতে তাদেরকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া ঠিক হয়নি। আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা অমানবিক। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এসআইএম রাজিউল করিম রাজু বলেন, ‘ওই মিডওয়াইফ নার্স শাবানা বেগমকে শোকজ করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার কারণ জানতে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. জাহিদ হাসানকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মিডওয়াইফ নার্স সাবানা বেগম বলেন, ‘রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে আমি তাদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি মাত্র।’

উল্লেখ্য, রীনা বেগমের এটি তৃতীয় সন্তান। প্রথম সন্তান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হয়েছিল। আর দ্বিতীয় সন্তান হয়েছিল স্বাভাবিকভাবে।

শুধুমাত্র রীনা বেগম নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানুষ মূলত ডাক্তারদের হাতে জিম্মি। ভুল চিকিৎসা, অবহেলায় মারা যাচ্ছে অগণিত মানুষ। বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া এমন কিছু ঘটনা এখানে উল্লেখ করা হলো।

২০১৯ সালের ৫ জানুয়ারি সিলেট নগরের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া যায়। শনিবার রাত ১০টার দিকে মেহরিমা নামের ছয় মাস বয়সী ওই শিশুটি মারা যায়। এতে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালটির বিভিন্ন কক্ষের দরজা-জানালার গ্লাস ও চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন। মারা যাওয়া শিশুর স্বজন ফজলুর রহমান জানান, বালুচর এলাকার শাহজান মিয়ার মেয়ে মেহরিমা নিউমনিয়ায় আক্রান্ত হলে শনিবার সন্ধ্যায় বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি করার কিছুক্ষণ পরই তাকে অক্সিজেনের মাস্ক পরিয়ে দেন চিকিৎসকরা। অক্সিজেন লাগানোর পরই মেহেরিমার খিচুনি ওঠে। এর কিছুক্ষণ পর সে মারা যায়।

হাসপাতাল ভাঙচুর করে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা। ছবি: সংগৃহীত

ফজলুর রহমান জানান, ‘খিচুনি ওঠার পর চিকিৎসক ও সেবিকাকে খুঁজতে গেলে হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক ও সেবিকা পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তাদের কেউও ছিলেন না।’

২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে হোমিও ডাক্তারে ভুল চিকিৎসায় খুশি নামের নয় মাসের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত হোমিও ডাক্তার বেলাল হোসেন দোকান ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

খুশি ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিল। গত বৃহস্পতিবার চৌদ্দগ্রাম বাজারের হোমিও চিকিৎসালয় তাহের হোমিও হলের ডা. বেলাল হোসেনের চেম্বারে নিয়ে আসলে তিনি সেফট্রোন-৫০০ ইনজেকশন শিশুটির শরীরে পুশ করেন। পরদিন (শুক্রবার) সকালে একটি এবং বিকেলে আরেকটি সেফট্রোন-৫০০ পুশ করেন শিশুটির শরীরে। এদিন বিকেলে ইনজেকশনটি পুশ করার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক শিশুটিকে চৌদ্দগ্রাম সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হোমিও চিকিৎসালয় তাহের হোমিও হলের ডা. বেলাল হোসেনের চেম্বারে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয় শিশুটির। ছবি: সংগৃহীত

২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি সকাল ১১টায় ধরখার-মোগড়াবাজারগামী সিএনজি চালিত অটোরিক্সা দুর্ঘটনায় সজিব আহত হয়। পরে তার স্বজনরা তার চিকিৎসার জন্য আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে কিন্তু জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তার কাজী শাহরিয়া বিনকে পাওয়া যায়নি। পরে সুদাংশু নামে একজন মেডিক্যাল এসিস্টেন্ট তার চিকিৎসা শুরু করে। শরীরে জখম না থাকায় বিকালে ঘুমের ইনজেকশন দিলে সজিবের মৃত্যু যন্ত্রনা শুরু হয়। পরে বিকাল সাড়ে ৩টায় সজিব মারা যায়।

আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয় সজীবের। ছবি: সংগৃহীত

২০১৯ সালের ৪ জানুয়ারিতে বরিশালে ভুল চিকিৎসায় আব্দুর রহমান নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার দুপুরে নগরীর রূপাতলীতে আবদুল্লাহ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। আব্দুর রহমানের স্বজনরা জানান, বেলা ১২টার দিকে আব্দুর রহমানকে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা বরিশাল নগরীর রূপাতলীতে আবদুল্লাহ হাসপাতালের মালিক ডা. হুমায়ুন কবিরের কাছে যান। আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন হৃদরোগে ভুগছিলেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল না। হেঁটেই ডাক্তার দেখাতে আসেন আব্দুর রহমান। তিনি স্বাভাবিকভাবেই কথা বলছিলেন।

রূপাতলীতে আবদুল্লাহ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মৃত আব্দুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ডা. হুমায়ুন কবির তাকে ৬ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে দেন। একই সঙ্গে চিকিৎসক তাকে পরপর দুটি ইনজেকশন পুশ করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট বের হওয়ার আগেই ইনজেকশন পুশ করার মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে রহমান মারা যান

২০১৮ সালের জুলাই মাসে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে চট্টগ্রামে এক সাংবাদিকের শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে- সামান্য গলাব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করার পর ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে একদিনের মাথায় তার মৃত্যু হয়। শিশুটির মৃত্যুর পর চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজসহ সচেতন নাগরিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করার পর ম্যাক্স হাসপাতালের বিরুদ্ধে এ ধরনের আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুল চিকিৎসার শিকার সাংবিক কন্যা। ছবি: সংগৃহীত

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বৃদ্ধ ইলিয়াস (৬০)। তার কিডনী নষ্ট হওয়ার কারণে চিকিৎসকরা কেটে ফেলে দেন। তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্রও দেয়া হয়। বাড়িতে আসলে ২-১ দিন পর ওখান থেকে পায়খানা আসছে। ইলিয়াসের স্ত্রী প্রথমে মনে করেন, কাটা জায়গায় গরমে ঘাম বের হচ্ছে হয়তো। এরপর পুনরায় তার স্বামীকে হাসপাতালে নিয়ে আসলেই জানতে পারেন ঘাম না ওটা পায়খানা। নগরীর আনোয়ারা মেমোরিয়াল হাসপাতল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নেন তিনি। বিশেষজ্ঞ সার্জারি চিকিৎসকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিডনির সাথে খাদ্যনালীর স্পর্শ থাকে। কিডনি কেটে ফেলার সময় অসাবধনতার কারণে ওই নালীতে ফুটো বা কেটে ফেলে সেলাই করা হয়। তাহলে ওখান থেকেই পায়খানা বের হবে। ওই রোগীকে পুনরায় অপারেশন করতে হবে।

২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট হবিগঞ্জে চাঁদের হাসি হাসপাতালে মল্লিকা দাস নামে এক নারীর সিজারের পর পেটের ভেতর তোয়ালে রেখেই সেলাই করার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সমস্যা দেখা দিলে অভিজ্ঞ ডাক্তার কর্তৃক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ২৪ নভেম্বর পুনরায় অপারেশন করে মল্লিকার পেটের ভেতর থেকে একটি তোয়ালে বের করা হয়।

২০১৭ সালের ১৮ মে ধানমন্ডির গ্রীনরোডে অবস্থিত স্ট্রোল হাসপাতালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আফিয়া জাহান চৈতির মৃত্যুর ঘটনা। ওই শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপতালটিতে ভর্তি হলেও তাকে দেওয়া হয়েছিল ক্যান্সারের চিকিৎসা। পরে ভুল চিকিৎসায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করেছেন সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।