প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে যে যে পদক্ষেপ নিচ্ছেন দীপু মনি

  • ২৭ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।
  • অ্যালুমিনিয়ামের ফয়েল পেপারের খামে প্রশ্নপত্র প্রতিটি কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
  • পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।
  • পরীক্ষার হলের আশপাশে যতটুকু সম্ভব ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।
  • কেন্দ্রে কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।
  • ফেসবুকে প্রশ্নফাঁসের গুজব ঠেকাতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সেল দায়িত্ব পালন করবে।

আসন্ন এসএসসি ও সমানের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে বিশেষভাবে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের ফয়েল পেপারের খামে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। পাশাপাশি আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি এক মাস সব কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ছবি: ইন্টারনেট

রবিবার (২০ জানুয়ারি) বিকালে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এসএসসি পরীক্ষার সুষ্ঠু ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ তথ্য জানান।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ২৭ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।

বন্ধ থাকবে সব কোচিং সেন্টার। ছবি: ইন্টারনেট

গতবছরও এসএসসির তিন দিন আগ থেকে পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার।

তিনি বলেন, এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অ্যালুমিনিয়ামের ফয়েল পেপারের খামে প্রশ্নপত্র প্রতিটি কেন্দ্রে পাঠানো হবে। এটি বিশেষ ধরনের খাম, যেটা দেখে বোঝা যাবে খামটি এর আগে কখনও খোলা হয়েছে কি না।

ডা. দীপু মনি বলেন, এবারও পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। যদি বিশেষ কোনো কারণে কারও দেরী হয় সেই ক্ষেত্রে দেরীর কারণ ও পরীক্ষার্থীর নাম ঠিকানা লিখে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।

ছবি: ইন্টারনেট

তিনি বলেন, পরীক্ষার হলের আশপাশে যতটুকু সম্ভব ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। গুজব রটনাকারীদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে নজরদারি শুরু হয়ে গেছে। যারা আগেও এ কাজ করেছে বা প্রশ্নফাঁসে যুক্ত ছিল তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা জঙ্গি দমন করতে পেরেছি। মাদক দমনেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তাই প্রশ্নফাঁসও আমরা ঠেকাতে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

মন্ত্রী বলেন, সচেতনতামূলক তথ্যগুলো গণমাধ্যমের সহায়তায় প্রচার করা হবে। পরীক্ষা সংশ্লিষ্টরা ছাড়া কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন না। কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। ছবি তোলা বা ইন্টারনেট সংযোগ নেই এমন একটি ফোন শুধু কেন্দ্রসচিব ব্যবহার করতে পারবেন। কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিন্ডিকেটভিত্তিক কেন্দ্র দেয়া হয়— এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু গতবছর এই অবস্থার মধ্যদিয়ে ভাল পরীক্ষা হয়েছে। ফলে এটা আমরা ঢাকা বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যেহেতু পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্ব পালন করে বোর্ড, ফলে এ বিষয়গুলো মন্ত্রণালয়ের ওপর বর্তায় না। এটা বোর্ডকে দেখার অনুরোধ করব।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে প্রশ্নফাঁসের গুজব ঠেকাতে বিটিআরসি নয়, তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সেল দায়িত্ব পালন করবে।’

আগে প্রশ্নফাঁসের ঘটনাগুলো তদন্ত হয়নি জানালে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে আপাতত আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। আমি জানলে, তা সংবাদমাধ্যমকে জানাব।’

এ বছর চার হাজার ৯৬৪টি কেন্দ্রে ২৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেবে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি হবে তত্ত্বীয় পরীক্ষা। আর ২৬ ফেব্রুয়ারি সংগীত বিষয়ের এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চের মধ্যে অন্য বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে।

এবারও বহু নির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশের উত্তর আগে দিতে হবে। পরে নেওয়া হবে সৃজনশীল/রচনামূলক অংশের পরীক্ষা।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর ছাড়াও জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সদস্যরা।