আদালতে খালেদা জিয়ার দেড় ঘণ্টা

ঘড়ির কাঁটা তখন ১২ টা পার হয়ে দুপুর ১২টা ২৬ মিনিট। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯ নং বিশেষ আদালতে সবাই উপস্থিত।  হুইল চেয়ারে হাজির করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। 

হুইল চেয়ারে করে আদালতে আনা হচ্ছে খালেদা জিয়াকে। ছবি: সংগৃহীত

নাইকো দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দেয়ার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আজ সোমবার (২১ জানুয়ারি) খালেদাকে বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে ১৩ জানুয়ারি  বিচারক এ দিন ধার্য করেন। বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে খালেদা জিয়াকে ফের কারাগারে নেয়া হয়

খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আজ আংশিক শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এরপর তিনি সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। অপর আসামি শহিদুল হকের পক্ষে অপর এক আইনজীবী আংশিক শুনানি করে সময়ের আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী শুনানির জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।
আরও পড়ুন: সৌদি ফেরত নারী শ্রমিকদের ভয়াবহ জীবন।

উল্লেখ্য, কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় নাইকো দুর্নীতি মামলাটি করেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিম উদ্দিন রোডের এই কারাগারে অন্তরীণ রাখা হয়েছে খালেদা জিয়াকে। মামলাটিতে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি তিনি। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাতেও নিম্ন আদালত তাকে ৭ বছরের সাজা দিয়েছে। নাইকো দুর্নীতি মামলাসহ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা চলমান রয়েছে।