পালিয়ে বিয়ে করাদের পাশে দাঁড়াবে পুলিশ

ভারতজুড়ে সম্মান রক্ষার্থে হত্যা দুঃখজনক সত্য। পরিবারের অমতে বিয়ে করলে প্রাণ দিতে হয় অনেক নর-নারীকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গোত্র, ধর্ম কিংবা আর্থিক মানমর্যাদার মিল না হওয়ায় ভারতের অনেক স্থানে পরিবারগুলো সন্তানের বিয়ে বা সম্পর্ক মেনে নিতে পারে না। সেক্ষেত্রে ‘পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে’ নিজের সন্তানকেই হত্যা করেন তারা।

পালিয়ে বিয়ে
ছবি – নাহিদ।

এ জন্য জেলেও যেতে হয় তাদের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনী যুগলদের সহায়তা না করে পরিবারের সঙ্গেই থাকে।

এর আগে ২০১৭ সালে একবার তরুণ দম্পতিকে নগ্ন করে হাঁটানো হয় রাজস্থানে। এমন খবর চাউর হয় সংবাদমাধ্যমেও।

সেসময় সর্বসমক্ষে প্রেমিক যুগলকে নগ্ন করে, গোটা রাস্তায় প্যারেড করানো হয়! এলোপাথাড়ি মারধরও করা হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, চারপাশ থেকে ঘিরে ধরা কয়েক’শো চেখের ভিড় সেই ‘লজ্জা’ বিস্ফারিত চোখে গিললেও, বাধা দেওয়ার কেউ ছিল না। লজ্জাজনক এই ঘটনাটি ঘটে রাজস্থানের বানসওয়ারায়।

জানা যায়, বাড়ির অমতে পালিয়ে বিয়ে করার কারণেই যুগলকে এই ‘শাস্তি’ দেয়া হয়!

একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল সূত্রে খবর, এই সম্পর্কে একদমই মত ছিল না মেয়ের বাড়ির। যে কারণে, যুগলে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। এতে রেগে অগ্মিশর্মা হয় মেয়ের বাড়ি। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। ১৬ এপ্রিল এই যুগলের সন্ধান পেয়ে, গ্রামে ফিরিয়ে আনা হয়।

তার পরেই শাস্তি দিতে মেয়ের পরিবার দু-জনকে উলঙ্গ করে গ্রামে ঘোরায়। বাড়িত অমতে পালিয়ে বিয়ে করায়, জোটে অকথ্য মারধরও। গ্রামের পথচলতি মানুষজন রাস্তায় জটলা করে, সেই দৃশ্য দেখলেও, একজনও কেউ প্রতিবাদ করেননি। এর মধ্যেই ওই ভিড়ে থাকা কারও মোবাইলের সৌজন্যে ১৮ এপ্রিলের ওই ভিডিও ক্লিপিং ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে। তার পরেই গোচরে আসে প্রশাসনের।

ঘটনার তদন্তে পুলিশ মেয়েটির বাড়ি যাওয়ার আগেই, অবশ্য তারা সপরিবার পালিয়েছে। ঘটনার শিকার ওই যুবক হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে পুলিশকে জানিয়েছেন, কীভাবে মেয়েটির পরিবার তাঁকে হেনস্থা করেছে।

এসব বিবেচনায়ই এবার এক ব্যতিক্রমী অবস্থান নিয়েছে ভারতের রাজস্থান পুলিশ। তারা পালিয়ে বিয়ে করা যুগলদের নিরাপত্তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টাইমস-এর।

Image source : somewhereinblog.net

জানা গেছে, রাজস্থান হাই কোর্টের আদেশের ওপর ভিত্তি করে সেখানকার পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জঙ্গা শ্রীনিবাস রাও বলেছেন, তারা এসব দম্পতির জন্য একটি হেলপলাইনও চালু করবেন।

এরইমধ্যে সব জেলা পুলিশ প্রধানকে হেলপলাইন চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান জঙ্গা শ্রীনিবাস রাও। পাশাপাশি একজন জ্যেষ্ঠ নারী পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগের কথাও জানানো হয়।