ব্যাকফুটে নয় সরাসরি মাঠে প্রিয়াঙ্কা

এতদিন কংগ্রেসের বিভিন্ন নির্বাচনের সময় দলের প্রচারণা বা সমাবেশে দেখা গেলেও সরাসরি সাংগঠনিক কোনো দায়িত্ব নেননি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগদান করলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। 

আজ বুধবার প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রিয়ঙ্কাকে এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োগ করেছেন দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী।তাঁকে উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই দিনই পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তরুণ নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে।

 কংগ্রেস সভাপতি রাহুলের মন্তব্য, ‘‘প্রিয়ঙ্কা-জ্যোতিরাদিত্যর উপর আস্থা রাখুন, ওরা ভাল ফল করে দেখাবে।’’

বহু বছর ধরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল, কবে সক্রিয় রাজনীতিতে আসবেন প্রিয়ঙ্কা। প্রিয়ঙ্কা রাজি নন, কিংবা দলের তরফে তাঁকে সেভাবে প্রস্তাব দেওয়া হয়নি, ইত্যাদি নানা মতামত ভেসে বেড়াত রাজনৈতিক মহলে। অবশেষে সেই জল্পনায় ইতি টানলেন রাহুল।

৪৭ বছর বয়সী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে অনেকেই তার দাদি ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মতোই মনে করেন। প্রিয়াঙ্কার আচরণ, ব্যক্তিত্ব ও চলাফেরা তার দাদির মতোই। এতদিন তিনি তার মা সোনিয়া গান্ধী এবং ভাই রাহুল গান্ধীর আসন অ্যামেথি এবং রায়েরবালির রাজনীতিতে আবদ্ধ করে রেখেছিলেন।

পর্যবেক্ষকদের একটা বড় অংশ মনে করেন (আনন্দবাজার), ‘‘সব রাজ্যে কংগ্রেসের সব স্তরের নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে আম জনতার মধ্যে প্রিয়ঙ্কার গ্রহণযোগ্যতা ঠাকুমা ইন্দিরা গাঁধীর মতোই। পরীক্ষিত না হলেও তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার উপরও অনেকেই আস্থা রাখেন। এই সব কারণেই তাঁকে কংগ্রেসের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ হিসেবেও অনেকে উল্লেখ করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ। এ বার লোকসভা ভোটের ঠিক আগে আগে আস্তিন থেকে সেই তুরুপের তাস বের করলেন রাহুল গাঁধী।

নানা ইস্যুতে চাপে আছে মোদি সরকার। ভারতে বিরোধী দলগুলোতে শুরু হয়েছে ঐক্যের গুঞ্জন।এরে মধ্যে প্রিয়াঙ্কাকে কংগ্রেসের পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব দিয়ে ‘ট্রাম্পকার্ড’ খেলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

রাহুল এদিন বলেন, এ বার ব্যাকফুটে নয়, ‘‘সরাসরি মাঠে নেমে গরিব, কৃষক, মজুরদের জন্য লড়াই করবেন প্রিয়ঙ্কা-জ্যোতিরাদিত্য। দু’জনের উপর আস্থা রাখুন, ওঁরা ভাল ফল করে দেখাবেন।’’

২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির বিপুল সাফল্যই কার্যত মোদীর জন্য দিল্লির সিংহাসনের রাস্তা খুলে দিয়েছিল। এবার সেখানে বিপরীত স্রোত। বিজেপিকে হারাতে জোট বেঁধে ফেলেছেন মায়াবতী-অখিলেশ। কংগ্রেসও ৮০টি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। ফলে এবারের ভোটে কংগ্রেসের কাছেও বড় চ্যালেঞ্জ উত্তরপ্রদেশ। এক দিকে বিজেপি এবং অন্য দিকে বিএসপি-এসপি জোটকে মোকাবিলা করতে নিয়ে এলেন ৪৭ বছরের প্রিয়ঙ্কাকে। সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মধ্যপ্রদেশের তরুণ নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে।

প্রিয়াঙ্কার এই দায়িত্ব গ্রহণে বিজেপি তোপ দেগেছে রাহুল গান্ধীকে। ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্র সামবিত পত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘রাহুল ব্যর্থ হওয়ায় তারা এখন প্রিয়াঙ্কাকে ক্রাচ (পঙ্গু লোকের যষ্টি) হিসেবে বেছে নিয়েছে। তারা কি পরিবারের বাইরে কাউকে পেলো না?’