অনুভব আহমেদের গুচ্ছ কবিতা : আমার আত্মা ভেঙে গেছে

তোমার দিকে দুর্নিবার

আমি তোমার দিকে দুর্নিবার ছুটছি
এই শরীর ছেড়ে
এ শরীর- যাকে তুমি আমি ভাবো
তাকে ছেড়ে
আমি রেখে যাচ্ছি জলের উপর বিস্মিত পদ্ম
আমি রেখে যাচ্ছি অসংখ্য বাড়ি ফেরা
আমি রেখে যাচ্ছি হাওয়ার কাছে জীবনের ঋণ
একটা অর্থহীন উদ্যান
যেখানে অর্থ খুঁজতে  বারবার মানুষের ফেরা
যেখানে যুদ্ধ শেষে তলোয়ার খাপ খোলা
যেখানে মানুষ মৃত্যুর সারাৎসার
যেখানে শরীরই ঠিকানা
আমি তোমার দিকে দুর্নিবার ছুটছি
এই শরীর ছেড়ে
তুমি আমার দিকে এসো নফসের বন্দীশ ভেঙে।


ফুলনামা

আমি বহুদিন অপেক্ষা করেছি
ঝরেনি সে ফুল
ফুটে আছে অগাধ কট্টর জলে
সে মানুষের ভেতর বাড়ির অচেনা অন্দর হয়ে ছড়িয়ে গেছে জীবনে
সে ফুল, পাখির আত্মা আর ঝাড়লন্ঠনের চিমনির মতো ভেসে থাকে ঘুরেফিরে
সে ফুল গাছের যৌবন নিয়ে ফুটে আছে জলে
দেহের চারপাশ ঘিরে জ্বলে আছে একাকী সব দুর্গ
ভরা জোস্নায় নদীর ডিগবাজি দেখে
হাততালি দেয়ার বয়েস এখন মৌন
ফুল, আমি তোমাকে ভালবাসি কামনার সাথে বেদনার মতো
ফুল দেখো, আমার আত্মা ভেঙে গেছে
টুকরোগুলো আয়না হয়ে তোমার ফুটে থাকাকে দেখাচ্ছে।


যে ফেরা আকাশ হয়

আমি মৃত্যুর করিডোর থেকে জীবনের দিকে ফিরছি
তুমি ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকো আমার কান্নাসমেত
রাতের অন্ধকার থেকে ভেসে আসা দু’একটা জোনাকির আলোয় আমি ঠিক চিনে নেব পথ
তুমি ফিরিয়ে রাখো তোমার দয়াপরবশ হাত
আমার প্রয়োজন নেই সেই হিংস্র মুঠোর
তুমি চিরকাল এক সোনালী হন্তারক
যার কাছে আমি ছুটে ছুটে গিয়েছি
তুমি চিরকাল সুচতুর অগ্নি
আমাকে ছাড়খার পুড়িয়ে যার মিটেছে ক্ষুধা
আমি আসছি জীবন, আরও একবার তোমার বুকে
পেছনে ফেলে আমার প্রিয়তম হত্যাকারীদের
এবার আমার বিপুল ক্ষুধা, এবার আমি উন্মাদ উন্মত্ত
কিন্তু আমি আর কাতর নই
আমি আর করুণ কোনও স্বর নই
এবার আমি ফিরছি হুংকার হয়ে
অজস্র আগুনে পোড়া শরীর আমার
তার আর শুশ্রুষার প্রয়োজন নেই
প্রয়োজন নেই দুটি মায়াবাক্যের
সে এসবের অনেক পর
সে এখন উন্মাদ বাতাসে উড়তে থাকা আকাশ, মুক্ত নিঃশ্বাস।