মিনারে কাটা ঘা | ফারাহ্ সাঈদ

মিনারে কাটা ঘা

মিনারে কাটা ঘা,
কিনারে কিনারে চাঁদ
ঘরে ফিরি নাই,
আমিওতো ঘরে ফিরি নাই

তরমুজছায়া কেটে ঘাম
মাংসের ঘ্রাণে ফিরে যায় ফল
হুহুটানে কে যায় দক্ষিণ
আহা কিনারে কিনারে চাঁদ!

মরুতে সেলাইকল

টেলিভিশন আমার ভালো লাগে না, তারচেয়ে বরং রেডিও ভালো। কানের কাছে অবিরত ঢেউ , কাকে যেনো শুনছি, মরুতে সেলাইকল, মানুষের রক্ত সেলাই হচ্ছে। সঙ্গে কেউ নেই। মৃতদের পাশ ফিরে শুয়ে আছে আকাশ, জ্বলজ্বলে চোখ তার। ধোঁয়া ওঠা পৃথিবীর এক খেলনা পিস্তল হাতে আমি শুয়ে আছি রেডিওর বারান্দায়, দিন আসে দিন যায়, বারুদের গন্ধে ঘুম আসে না, ঘুম আসে না, ঘুম আসে না…

রেডিওর রোয়া ওঠা বারান্দায়…

দীর্ঘ তিলাঞ্জলি
(অস্ফুট বাদামের কবিকে)

কি করে গদ্যপাতায় জলবায়ু বদলে
লাউফুল হত্যা করো তুমি?

ছুরির গলায় শৈশব তুলে দিয়ে কি করে
তুমি নিশ্চিন্তে ফেরি করো অনন্ত কবিতা তোমার।

তোমার সঙ্গে আমার কথা বলতে ভয় হয় কবি
আমার ভীষণ ভয় হয়
পাছে কোন অস্ফুট বাদাম আগুনের ফুলকি ভেবে
যদি না ফোটায় তোমার ঘুমের খেয়াল!

এ শহরের অভিমান
কবি তোমার সমুদ্র পাহারায়
দ্বিধাবৃক্ষে ছায়ার সমান
দুফোঁটা ঘামের মতই
নোনাচোখে আত্মাহুতি দেয় রোজ

ফরাজিকান্দির কসম

তুষে নেভা আগুনে কি দ্বিধা তোমার?
থাকো না অল্প শ্বাসেই,
এভাবেই বেঁচে থাকো ঘ্রাণ

ভাতের আদলে স্বাদ, যদি দাও
তুমি যদি শাদা হও
ছেঁড়া মেঘ
আমাকে ঠিক নুন অবধি থামিয়ে নাও

জোছনায়—
অতলে—
ভুলে—

কে যেনো গানের মাঝেই থেমে যায় রোজ

তারপর, যেতে যেতে
এক আলোকবর্ষ পর আবার কোথাও
এখানে, এইখানে তোমার দুর্বাঘাসের ডগায়
এটুকু হয় না বুঝি রহম?
কে দেয় তোমায়
ফরাজিকান্দির কসম।

আরও কবিতা পড়ুন :