অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

ভারতকে পেছনে পেলে অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ। ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সূচক ২০১৯’ এর প্রতিবেদনে আগের বছরের তুলনায় সাত ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ ফাউন্ডেশন ১৯৭৩ সাল থেকে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। ২০১৯ সালের জন্য প্রস্তুত করা সূচকে বাংলাদেশ ৫৫.৬ নম্বর নিয়ে ১২১তম অবস্থানে আছে। এর আগে এই সূচকে ২০১৬ সালে ১৩৭ এবং ২০১৭ ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৮ তম স্থানে। আর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ৪৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৭।

অবদমিত, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অমুক্ত, মাঝারি রকমের মুক্ত, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মুক্ত এবং মুক্ত—এই পাঁচ ভাগে ভাগ করে প্রদিবেদন প্রকাশ করা হয়। পুরোপুরি মুক্ত দেশ মাত্র ছয়টি। এর মধ্যে দুটিই এশিয়ার হংকং ও সিঙ্গাপুর। অন্য চারটি হলো নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও আয়ারল্যান্ড। মুক্ত দেশগুলোর স্কোর ৮০ থেকে ১০০–এর মধ্যে। ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মুক্ত’ দেশের তালিকায় জায়গা পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার মতো ধনী দেশগুলো। 

এ বছরের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহতভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের বেশি থেকেছে বাংলাদেশে। হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে বাংলাদেশ ১২১তম অবস্থানে আছে মানে দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতা এখনও ‘প্রায় না থাকার সমান’ (মোস্টলি আনফ্রি)। তবে বাংলাদেশে মজুরি বৃদ্ধির তুলনায় বেড়েছে উৎপাদনশীলতা। ব্যবসা সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ আগের চেয়ে কিছুটা সরল হয়েছে। বিনিয়োগে আমলাতান্ত্রিক বাধা অপসারণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, সরকার বিনিয়োগ তরান্বিত করতে আমলাতান্ত্রিক বাধা অপসারণের পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পরিবর্তনের গতি খুব কম। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ এখনও আর্থিক খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রয়ে গেছে। প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশিদের ৫৪ শতাংশেরই ব্যাংকিং খাতের প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। বাণিজ্য স্বাধীনতা বিভাগে বাংলাদেশ আগের চেয়ে এগিয়েছে; বিনিয়োগ স্বাধীনতায় পিছিয়েছে।