কালপুরুষের গুচ্ছ কবিতা : প্রেমিকা, কেন অপরের হয়?

ক্ষমা’

অভিজ্ঞতায় জেনেছি— মানুষ মনে রাখে না;
ফুলের সেই ক্ষমতা নেই; তাই পথের ফুলটিকে বললাম— ‘ভুলে যেও না’

‘আমাদের মস্তিস্ক নেই যে, ভুলে যেতে পারবো
নইলে তোমাদের কিছুই আমরা মনে রাখতাম না
যদিও তোমরা যে মধু খাও তা আমাদের স্মৃতি দিয়ে তৈরী’

‘কিন্তু মানুষ হিসেবে আমি ততটা স্মৃতিভুক তো নই’

‘তাহলে আমি যে ফুল তার প্রমাণ দিতে পারো তুমি?’

‘স্বীকৃতি!’

‘হ্যাঁ’

‘তোমাদের কমিশনার নেই?’

‘আছে কিন্তু তাকে কেউ ভোট দেয়নি’

‘সে তবে রাষ্ট্রের মতো একা!’

‘সে তবে রাষ্ট্রের মতো নিরীশ্বরবাদী’

‘তোমাদের ধর্ম আছে!’

‘তোমাদের কি হত্যায় উৎসাহ নেই?’

‘আমি কাউকে খুন করিনি’

‘করোনি?’

‘না’

‘তুমি জানো?’

‘হ্যাঁ’

‘অর্থাৎ মৃত্যুর মূল্য একটি সন্ধ্যামাত্র!
আমার মা আজ সন্ধ্যায় ছাঁদ থেকে পড়ে মরে গ্যাছে’

‘যেন এর চেয়ে দুঃখের কথা আমি কখনো শুনিনি’

‘কারণ আমিই একমাত্র ফুল যে কথা বলে’

‘আমিই কি তবে সেই হন্তারক!’

অভিজ্ঞতায় জেনেছি— ফুলেরা ক্ষমাশীল
তাই শত্রুর কবরে আমরা গোলাপ উপহার দেই


প্রেমিকা, কেন অপরের হয়?

অপরের প্রেমিকার বুকের দিকে চেয়ে দিন কাটে যে লোকের,
তাঁর জন্য আমার বড় দুঃখ হয়। প্রেমিকা কেন যে অপরের
হয়? এই প্রশ্ন চা’য়ের কাপে রেখে ডান হাতে তুলে ধরি পেয়ালা বিষের—

বিষে মৃত্যু থাকে না, থাকে প্রেমিকার প্রথম বিয়ের নিমন্ত্রণে;
প্রশ্নটা উড়ে ঘুরে অহংকারী মাছি রূপে গোপনে
বসে গিয়ে লোকটার রাতের খাবারে— মনে

পড়ে— সুফিয়া, পাশা ঘরামীর ছোট মেয়ে আজও প্রতি সন্ধ্যায় একই
আয়াত তিলওয়াত করে ভুল উচ্চারণে মা’য়ের কবরে, লুকিয়ে দেখি
ক্রমেই সে রমণী ক্রমেই সে উজ্জ্বল ক্রমেই সে কী

এক অপার রহস্যে বসে থাকে নুয়ে, চালতা ফুল ঝরে;
কার ছায়া! এ কোন যুবক? মেয়েটার পাশে কী করে
সে? কেন সে জল ফ্যালে লুকিয়ে, আমার কবরে!


গন্ধম সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় লয়ালিটি প্রসঙ্গে

প্রায়লুপ্ত একটি আপেলের প্ররোচনায় এই জন্ম
তাই আপেল দেখলে নত হয়ে দাঁড়াই

জিজ্ঞাসার পূর্বেই জানাই
নাম
বয়স
পাজরের জন্মচিহ্ন
বাবা বুদ্ধিজীবী

সন্ধ্যার পর কাউকে চিঠি লিখি না
যারা লেখে তাদের আমি বন্ধু বলে স্বীকার করি না
পুলিশ ভয় পাই আইনকে শ্রদ্ধা করি কবি দেখলে এক পা’য়ে দাঁড়িয়ে কুর্নিশ জানাই
সি, হাউ মাচ লয়াল আই এম
সন্ধ্যার পর মদ খাই না
যারা খায় তারা দিনের বেলা ধার চাইতে আসে সহাস্যে তাড়িয়ে দেই
সত্য লিখি না মিছিলে যাই না মিথ্যে বলি না
(আপেল ভ্রু কুচকে তাকায়)
কিন্তু স্যার, মিথ্যেও তো কম ভণ্ড নয়
সুযোগ পেলেই সত্যের কাছে মাথা নত করে

নো আর্ট নো প্রাইড নো এবসার্ডিজম
নো হোপ এন্ড মাস্ট নো বারগেইন
বহুকাল কসাইয়ের দোকানে ঝুলে থেকে দেখেছি জীবন একই রকম
তবে কিছু কসাই স্ত্রী’কে ভালোবাসে, কিছু স্ত্রী ভালোবাসে গরু, ঝুলিয়ে রাখা অণ্ডকোষ;
আমি কাউকেই ভালোবাসি না জনাব
হারিয়ে ফেলবার ভয় আমাকে বিষণ্ণ কোরে রাখে
আর একদিন সত্যিই তা হারিয়ে যায়— যত গভীর তত গভীরে সে হারায়

ফলতঃ দলগত সঙ্গম নিমন্ত্রণে দু’টো ফল বেশি খেয়েছিলাম
কিন্তু তাই বোলে ওরা আমাকে এভাবে মারবে!
হাড় ও মাংস পৃথক কোরে গুনে দেখেছি জনাব
কোথাও কোনো যুদ্ধজাহাজ লুকানো ছিলো না
‘মূলতঃ শৈশব দুপুরের সাঁতার ছাড়া মনে রাখবার মতো
আপনার উল্লেখযোগ্য কোনো রাষ্ট্রীয় অবদান নেই’
আমাকে জানানো হয়। স্বভাবত মাথা নিচু কোরে রাখি

ওরা বলে এটা আমার দেশ নয়
ওরা বলে এটা আমার ভাষা নয়
ওরা বলে আমাকে নির্বাসিত করা হয়েছে
নাম বয়স পাজরের জন্মচিহ্ন কিছুই আমার অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে পারে না

আপেলটি নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে পড়েছে
যতই সূর্য উঠুক রাত তো আসবেই