৭০ বছর প্রেমের পর একসাথে মৃত্যু

হাজারো দুষ্কর্ম, ঘৃণা, হানাহানির মাঝেও প্রেম এখনো এই দুনিয়ার প্রধান চালিকা শক্তি। ৯২ বছর বয়সী ফ্রান্সিস আর্নেস্ট প্ল্যাটেল ও তার ৯০ বছর বয়সী স্ত্রী নরমা জুন প্ল্যাটেল সে উদাহরণ রেখে গেছেন।

৭০ বছরের সুখী দাম্পত্য জীবন কাটানোর পর তারা কেউই আর একা থাকতে চাননি। একটা দিনও নয়। তাই পরস্পরের হাতে হাত রেখে মৃত্যুবরণ করলেন দুজন।বাংলাদেশে দাম্পত্য কলহে যখন আকাশ নামক এক তরুণ চিকিৎসক আত্মহত্যা করেছেন।তখন অস্ট্রেলিয়ার এই দম্পতিকে নিয়ে এখন দুনিয়াজুড়ে চলছে আলোচনা।

নরমা দীর্ঘদিন ধরে আলঝেইমার রোগে ভুগছিলেন। ফ্রান্সিসও বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। দুজনকে একই ঘরে রাখা হয়। দুজনের খাট ছিল পাশাপাশি। চিকিৎসা চলছিল। হঠাৎ একদিন নরমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অস্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে শুরু করেন তিনি। হঠাৎ করে ফ্রান্সিসও অস্থির হয়ে ওঠেন। প্রায় একই সময়।
৭০ বছর একসঙ্গে সংসার, হাতে হাত রেখে দম্পতির মৃত্যুস্ত্রী নরমা জুন প্ল্যাটেলের সঙ্গে আনন্দ ও অনেক ভালবাসায় সময় কাটাতেন ফ্রান্সিস আর্নেস্ট প্ল্যাটেল।৭০ বছর যাত্রাপথে ভাল-মন্দ মুহূর্ত যা-ই এসেছে, একসঙ্গে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। আলাদা থাকার, একা থাকার অভ্যাসটাই যেন ছিল না দুজনের মধ্যে কারও। সেটাই বুঝিয়ে গেলেন। তাদের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা নার্স ১০ মিনিট পরপর পরীক্ষা করছিলেন। সেই নার্সই দশ মিনিটের ব্যবধানে পরীক্ষা করতে এসে দেখেন, দুজনের শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। চিকিৎসকরা দুজনের মৃত্যুর সঠিক মুহূর্ত জানাতে পারেননি। তবে দুজনের মৃত্যু প্রায় একসঙ্গে বলেই ধরা হয়েছে। মৃত্যুর সময় দুজনে দুজনের হাত ধরেই ছিলেন।

সত্তর বছর পরও একে অন্যের হাত ধরে তাদের মনে হয়েছে হয়তো, আরো কয়টা দিন একসঙ্গে থাকতে পারলে ভালো হতো। তবে আলাদা হয়ে একটা দিনও নয়।

৭০ বছর একসঙ্গে সংসার, হাতে হাত রেখে দম্পতির মৃত্যু