ছাত্রলীগের ওঠানো শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দিলেন প্রাধ্যক্ষ

শুক্রবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হলে ছাত্রলীগের ওঠানো জনি মিয়া নামের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে বের করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলী আসগর আবাসিকতা না থাকায় ওই শিক্ষার্থীকে বের করে দেন। ওই শিক্ষার্থী মতিহার হলের ১২০ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন।

হলের একজন কর্মচারী বলেন, ‘জনি মিয়াকে ২৩৫ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী মোহন কুমার মণ্ডল হলে তোলেন। এ তথ্য পেয়ে শুক্রবার বিকেলে ওই কক্ষে হল প্রশাসন অভিযান চালায়। এসময় জনির জিনিসপত্র নিয়ে বের হয়ে যেতে বলেন হলের প্রাধ্যক্ষ। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মতিহার হলে অবস্থান নেয়। এমনকি হল ফটক অবরোধ করে তারা হল প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।’

এ বিষয়ে অধ্যাপক আলী আসগর বলেন, ‘বিকেল তিনটার দিকে জানতে পারি যে, হলের ১২০ নম্বর কক্ষে এক অনাবাসিক ছাত্র অবস্থান করছে। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে হল ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘আমাদের কাছে জনি নামে এক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এসেছিলো তার সমস্যা নিয়ে। আজ সকালে তাকে আমরা ওই হলে তুলে দিই। কিন্তু প্রাধ্যক্ষ স্যার পুলিশ দিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে বের করে দিয়েছেন। একজন শিক্ষার্থীকে পুলিশ দিয়ে বের করবে কেনো?’

তিনি আরও বলেন, ‘জনিকে বের করে দেয়ার পর আমরা সেখানে যাই। পরে প্রক্টর স্যারের পরামর্শে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য আমরা প্রাধ্যক্ষ স্যারের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করেননি। এমনকি তিনি ফোন পর্যন্ত রিসিভ করেননি। তবে এজন্য আমরা কোনো ধরনের অবরোধ করিনি।’

তবে পুলিশের বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ আলী আসগর বলেন, ‘হল গেইটে অবস্থান করা পুলিশকে নিয়ে আমি অভিযান পরিচালনা করেছি। আমি তো বাইরের কোনো পুলিশ নিয়ে ঢুকিনি। আর কে কাকে তুলেছে, সেটা আমার জানার বিষয় না। হলের পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য অনাবাসিক কাউকে হলে থাকতে দেওয়া হবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ওখানে উপস্থিত ছাত্রলীগসহ ওই শিক্ষার্থীকে বলেছি বিষয়টি নিয়ে হল প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করতে।’