ওমর ফারুক জীবন-এর গুচ্ছ কবিতা

বারবিকিউ

সেবার গ্রহদোষ ছিল,
ছিল চন্দ্রগ্রহণ সূর্যগ্রহণ, অ
ক্যালেন্ডারের পাতা বিষণ্ণ করে
ধুলিপথ দুধেল পথেই
ফিরে গিয়েছে বৃহস্পতি,গ্রহে ;

এবার সে বড় তুঙ্গে!

এবার মেঘমালা পেরিয়ে
বর্ষা বৃষ্টি পেরিয়ে,
রৌদ্র পেরিয়ে নিমগ্ন নদীর দ্বারে,
নৃত্য করে ওঠবে উদ্যম প্রান্তর,
দিগন্তের মায়ামৃদঙ্গ!

এবার গেয়ে উঠবে অরণ্য,
পাতারা পাখিরা সমবেত গান ধরবে
বৃক্ষের সম্ভাষণের কাছে
দুদণ্ড হাওয়ার অবকাশের কাছে
বনভোজনের ঘ্রাণ ছড়িয়ে
জ্বলবে বারবিকিউ।

 

আবছা বৃহস্পতিবার

আমার কুয়াশা ভাল লাগে,
রোদও,

কুয়াশার ভিতর কোন দিন তারিখ থাকেনা,
হাতঘড়ি দেয়াল ঘড়িও,
সময়ের তারতম্য
কোন সীমানা সীমান্ত থাকেনা,
থাকেনা শুরু আর শেষ,

অনিঃশেষ কুয়াশার ভিতর শিশির জমতে জমতে
ভিজে উঠে ক্যালেন্ডারের পাতা,
আর কোথাও রৌদ্রের তোরণে সেঁটে থাকে
আবছা বৃহস্পতিবার…

 

নাচ

কোথাও চুপচাপ অপেক্ষা করে আছে
একজোড়া
নূপুর;

ঝঙ্কৃত ধ্বনি,

অথচ এখানে নেচে ওঠছে পা,
মুদ্রা,
বিচলিত নাচ ;

দূরে- বিবাহবাড়ী,
এখানে সাজ সাজ রব ,
সানাই বাজছে, বাজছে নহবত ;

দূরে- ভ্রমণ,
দীর্ঘ হচ্ছে পথ,গুনগুনাচ্ছে মন ;

হায় ভ্রমর!
যাবে নাকি ও- দ্বিধা, ও- দ্বৈরথ?

কেন তবে দ্রুত ফুরিয়ে যায় ভোরের তোরণ?
গনগনে দুপুরের বারাতি,
মেঘমেদুর বিকেলের শেষে গোধূলির-
রঙিন আয়োজন।

(ছায়ার ক্যারাভান ২০১৯)

 

শব্দমাংস

এইসব শব্দ-মাংস এক করে
হাড় মজ্জা জল করেই
তার কাছে যাওয়া।

এ ছাড়া আর কোনই সেতু নেই,
সেতুবন্ধ নেই,
একটুকরো হৃৎপিণ্ড ছাড়া
ক্রিয়া নেই কোন।

অথচ রাতদিন আরাধ্য
এই ধুধু নৈঃশব্দ্য পার করে
এক রক্তমাংস! রক্তমাংস!
হাড় পাঁজরের গান শুনে শুনে
শব্দ-নৈঃশব্দ্যের সমুদয়
সমুদ্র পার হওয়া….