সানোয়ার রাসেল-এর গুচ্ছকবিতা

প্রজাতন্ত্রের গান

রাষ্ট্রে যখন ব্যস্ত ভীষণ শীত
জাড় ঢুকে যায় নষ্ট টুইয়ের ফাঁকে
আগুন জ্বালার বাহুল্যতার কালে
ছানিচোখে জল টলমলে প্রার্থনা
‘কেবল তোমার জন্য এ বন্দেগী,
কেবল তোমার কাছেই নাসতাঈন’

রাষ্ট্রে যখন ব্যস্ত ভীষণ শীত

মগজেরা সব শবাধারে পরিণত
জম্বিজনতা শেখানো শ্লোগান ঝাড়ে
প্রতিবাদী ছেলে কাতরায় জেলঘরে
মায়ের যাচনা গুমের আশঙ্কাতে—
‘কেবল তোমার জন্য এ বন্দেগী,
কেবল তোমার কাছেই নাসতাঈন’

মগজেরা সব শবাধারে পরিণত

রাষ্ট্রের নাম গণ-প্রজা-তন্ত্রী
জনগণ প্রজা— আজীবন তাই রবে
রাজা কে হবেন তাই নিয়ে গোলযোগ
কেউ কেউ শুধু পানাহ চায় ফিতনায়—
‘কেবল তোমার জন্য এ বন্দেগী,
কেবল তোমার কাছেই নাসতাঈন’

রাষ্ট্রের নাম গণ-প্রজা-তন্ত্রী


এখন নৈহালকাল

এখন এই শীতে কোথাও উত্তাল
সাগরে উঠে ঢেউ তুফান বেসামাল
যাপিত জীবনের সুনীতি ঝরে যায়
হলুদ পাতা হয়ে— এখন ভোটকাল

আকাশে আছে ঝুলে প্রতীক-পোস্টার
জলেতে উঠে চাঁদ— এ হেন মিথ্যার
শহরে গেরামে গঞ্জ ও বাজারে
মৃদু এ ফিশফাশ— ‘কি হবে দেশটার’

কার উনুনে পোড়ে বেগুন কাহাদের
অনভ্যাসে টুপি ঢেকেছে মাথা ফের
সাহা’রা পুড়ে মরে ও কার ইশারায়
বিবেক বেচাকেনা হয় না হেরফের

এদিকে বুম হাতে ফিফথ কলামেরা
তোতার বুলি মুখে কি গান গেয়ে যায়
কপালে চুল কমে ঘরেতে কমে চাল
হাজার তরুণের স্পৃহারা মরে যায়

খামোশ! চাপাবাজি
খামোশ! চেতনা
খামোশ! লাজহীন টিনের চশোমা
খামোশ! পদলেহী
খামোশ! খুদখোর
খামোশ! লুট হয় সীমানা, ব্যাংক তোর

এখন এই শীতে ঝরেছে পাতারা
ঘুমায় মানুষের জীর্ণ কাঁথারা
ঘুমায় অধিকার ফাঁকির বিছানায়
চেতনাব্যবসায় কেটেছে বহুকাল

এসব থেকে দূরে গহীন জলে ঐ
ঘুমায় মীন, ডুবে হারানো এ কাকৈ
হারায় স্বপ্নেরা, এমন জমানা
বিরান মাঠ জানে—‘বাঙালি হারে না’


রাকীমের জন্য হাহাকার

সূরা কাহাফের রাত্রি হয়েছে শুরু
নীরবতা ভাঙ্গে গম্ভীর তিলাওয়াতে
মাখরাজে আজ ওঠানামা করে ঢেউ
যে বাণী বয়েছে হাজার ফারিশতারা

সূরা কাহাফের রাত্রি হয়েছে শুরু

তুমি নিয়েছিলে নিরাপদ আশ্রয়ে
কতেক যুবক তদীয় কুকুরসহ
কবুল করেছো তাহাদের প্রার্থনা
মৃত্যুদর্শী দীর্ঘ ঘুমের ভানে

তুমি নিয়েছিলে নিরাপদ আশ্রয়ে

আমিও তো চাই নিজের থেকেই পানাহ
নিজেকে লুকাবো এমন রাকীম কই
সুসুপ্তিতেও নফসেরা দেয় হানা
জুলুমে কে আর আমার চাইতে বড়

আমিও তো চাই নিজের থেকেই পানাহ

পৃথিবীতে আজ অভাব গর্ত-গুহার
কোথায় লুকাবো গুনাহের হাত থেকে
জুলকারনাইন সফর করেছে শেষ
অথচ অধরা মগজের বহু কোষ

পৃথিবীতে আজ অভাব গর্ত-গুহার

ইয়াজুজ-মাজুজ অভ্রলেহন করে
প্রতিদিন ভাঙ্গে হৃদয়ের সংযম
ভয়ে ভয়ে খুঁজে ফিরি সে জ্ঞানীর পথ
যে পথে মুসার মৎস্য গিয়েছে চলে

ইয়াজুজ-মাজুজ অভ্রলেহন করে

সূরা কাহাফের রাত্রি হয়েছে শুরু
নীরবতা ভাঙ্গে গম্ভীর তিলাওয়াতে
আমাকেও দিও সেই রাকীমের খোঁজ
যেখানে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারি

সূরা কাহাফের রাত্রি হয়েছে শুরু

 

[কবিতা তিনটি প্রকাশিতব্য কাব্য ‘অন্ধ মুসাফিরের দর্শন’ থেকে গৃহীত]