উড়ে যায় পঞ্চবর্নী মেঘ; দারুণ অবহেলা : জাহিদ অনিক

আরাধ্য

উড়াতে উড়াতে অবেলার ফানুস-
বেখেয়ালে ছেড়েছে হাত, পাড়া বেড়ানো মেঘ;
বোঝে না কথা, শোনে না বারণ-
দেখে না চোখের তারা-
মুখ বুজে বোবা মেঘ অকারণে দেয় পাড়ি
কালো মেঘের সাথে আমার আধ জনমের আড়ি;
গুড় গুড় ডাকে কেবল বুকে জমায় বাষ্প-কণা
থর থর কাঁপে শুধু নিথর ওষ্ঠ-জোড়া।

নৈসর্গিক দোলাচলে বয়ে যায় বেলা
উড়ে যায় পঞ্চবর্নী মেঘ; দারুণ অবহেলা।

 

না-পুরুষোচিত

অকস্মাৎ নিজের কথা ভাবতে বসলে-
টের পাওয়া যায় বিশ্ব ছোট হয়ে গেছে,
একজন পুরুষের জীবন অতটা বিশাল নয়
যতটা চওড়া তার বুকের মাপ হয়ে থাকে।

পুরুষকে ভালোবাসা দিতে শিখে নাও
কেননা পুরুষ কুকুরের মত;
আধাবেলা ভালোবেসে দ্যাখো-
আজীবন তোমায় রেখে দিবে চোখের কোণে।

 

পর্ণমোচী

একটি বৃক্ষ আঁকতে গেলে এঁকে ফেলি প্রেমিকার মুখমণ্ডল
শিকড় যেভাবে কামড়ে ধ’রে মাটিকে-
আমাকেও সে জড়িয়ে রাখে আষ্টেপৃষ্ঠে।

প্রথম অঙ্কুরোদগম; দ্বিবীজপত্রী বলতে বুঝি
প্রেমিকার সিক্ত দুটি ঠোঁট।
আমার প্রেমিকা গাছটি’র নাম দিলাম চিরহরিৎ নিম;
ঔষধি চিরুল তাঁর ঠোঁট ভয়ানক তিক্ত-
গা’য়ে মাখি না ভয়ে
আশঙ্কা; অসুখ যদি যায় সেরে!

পূর্ণিমা তিথিতে-
জোয়ার আসে নীমে’র শরীরে আমার
আমি সিক্ত হই তেতো জলে-
হ্যাঁচকা টানে পরিণীতা’র শরীর থেকে ভেঙ্গে নিয়ে হাত
আমি তাড়াই জলবতী মেঘ।

প্রেমিকার কপাল-জমিন যেন প্রকাণ্ড আকাশ;
সেখানে চুমু খায় চাঁদে’র মত এক লাল টিপ।