জঙ্গি হামলায় নিহত ৪০ সেনা

বৃহস্পতিবার বিকেলে বেলা সাড়ে তিনটা নাগাদ পুলয়ামায় শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়কের ওপর সিআরপিএফের সদস্যদের বহনকারী দুটি গাড়ি লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলায় ৪০ জন নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। হামলায় নিহতদের সবাই ভারতের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) সদস্য। হামলার দায় স্বীকার করেছে জঈশ-ই-মহম্মদ।

এই হামলার ঘটনায় কাশ্মীর ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জঈশ-ই-মহম্মদের আদিল মোহাম্মদ নামের এক হামলাকারীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। গত বছর তিনি জঈশ-ই-মহম্মদে যোগ দেন।

সূত্র মতে, জঙ্গি সংগঠন জঈশ-ই-মহম্মদের আদিল মোহাম্মদ নামের সন্দেহভাজন এক হামলাকারী বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি চালিয়ে সিআরপিএফের একটি বাসে সজোরে ধাক্কা মারে। বিস্ফোরণের পর গাড়িটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এতে ৪০ জওয়ান নিহত হন। আহত ব্যক্তিদের শ্রীনগরে সেনাবাহিনীর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই বাসটিতে বাহিনীর ৫৪ জন সদস্য ছিলেন।

কাশ্মিরে জঙ্গি হামলায় ৪০ সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘পুলয়ামায় এই হামলা ঘৃণ্য ও কাপুরুষোচিত। আমাদের বীর সেনাদের জীবন বলিদান আমরা বৃথা যেতে দেব না। আমাদের গোটা জাতির শহীদ সেনা সদস্যদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’

হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন কাশ্মিরের সাবে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা টুইট বার্তায় বলেন, ‘উপত্যকায় ভয়ঙ্কর হামলা হয়েছে বলে খবর পেলাম। সেখানে আইডি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে জঙ্গিরা। তাতে বেশ কয়েকজন সিআরপিএফ সেনার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। এই হামলার তীব্র নিন্দা জানািচ্ছি। নিহতদের পরিবারের জন্য সমবেদনা আর আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’

জম্ম-কাশ্মিরের আরেক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি টুইটারে লিখেছেন, ‘ভয়ঙ্কর একটা খবর পেলাম। আমাদের অনেক সেনাসদস্য শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এই ভয়ঙ্কর হামলার জন্য নিন্দা জানানো যথেষ্ট নয়। আর কতদিন এভাবে চলবে? আর কত জনকে প্রাণ দিতে হবে?’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘পুলওয়ামায় সেনাদের শহীদ হওয়ার খবর শুনে আমি শোকস্তব্ধ। অসীম সাহসের জন্য সেনাসদস্যদের শ্রদ্ধা জানাই। আর নিহতদের পরিবার-পরিজনের জন্য সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’