আত্মঘাতী জইশ জঙ্গি আদিলের আসল পরিচয়

আদিল আহমেদ

স্বাধীনতার পরে কাশ্মীরে সর্ববৃহৎ জঙ্গিহামলা হলো গত বৃহস্পতিবার। পুলওয়ামার অবন্তীপুরায় আত্মঘাতী জঙ্গিহামলায় এ যাবৎ পাওয়া খবর অনুযায়ী নিহত ৪২ সিআরপিএফ সেনা। এ দিন সিআরপিএফ সেনা বোঝাই একটি বাসে ২০০ কেজি বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি ধাক্কা মারে আত্মঘাতী জইশ জঙ্গি আদিল আহমেদ। ইতিমধ্যেই হামলার দায় স্বীকার করেছে জইশ-ই-মহম্মদ।

আদিলের পরিবারের দাবি, ২০১৬ সালে জঙ্গি বুরহান ওয়ানির মৃ্ত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল আদিল। বিক্ষোভ দেখানোর সময়ে আদিলের পায়ে গুলি করা হয়।

২০১৮ সালে জইশ-ই-মহম্মদে যোগ দেয় আদিল।

একাদশ শ্রেণির পরে আর পড়াশোনা করেনি সে। স্কুল ছাড়ার পর থেকে বেশ কয়েক দিন নিখোঁজ ছিল আদিল। তখন পরিবার থানায় মিসিং ডায়েরি করে। আদিলের সঙ্গে তার এক বন্ধু সমীর আহমেদ নিখোঁজ রয়েছে। সমীরের এখনও পর্যন্ত কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।

পুলওয়ামার হামলাস্থল থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে গুন্ডিবাগেই বাড়ি আদিলের।জঙ্গি দলে যোগ দেওয়ার আগে একটি মিলে কাজ করত আদিল।

ফিঁদায়ে হামলার জন্য আদিলকে বেছে নিয়েছিল জইশ এর মাথারা। ক্যাটাগরি ‘সি’ জঙ্গি ছিল আদিল। সেখান থেকে নিজের দিকে নজর ঘোরাতেই বড় নাশকতার ছক কষে সে।

আফগানিস্তানে জঙ্গি যশ ও গাজি রশিদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেয় আদিল।আফিগানিস্তানে মাঝে মধ্যে সেনার উপরেও একই কায়দায় হামলা চালায় তালিবানরা। সেখান থেকেই আদিল অনুপ্রাণিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভিডিওতে আদিলের হাতে এমফোর কার্বাইন দেখা গিয়েছে। এত শক্তিশালী অস্ত্র তার হাতে কী করে এল, সেটাই ভাবাচ্ছে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের।

আদিলের কাছের এক আত্মীয় জঙ্গি দলে ছিল। পরে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে সে প্রাণ হারায়

জইশের হয়ে কাজ করলেও একাধিকবার লস্কর ও হিজবুলের সঙ্গেও দেখা গিয়েছে ২২ বছরের আদিলকে।

এখন এই জঙ্গি সংগঠনের বাকি প্রধানদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।