তোমার নজরের মত বারদিকে উড়ে যায় : শামশাম তাজিল

আবিষ্কার

যার ঘরে বসার পিঁড়ি পর্যন্ত নেই সেও স্বপ্নে পালঙ্কে ঘুমায়!

আজ বিকেলে নদী তির ঘেষে হাঁটতে হাঁটতে
এক জেলের গল্প শুনেছি। মীনগন্ধা গা। তবু তার ঘরে মাছ জুটে না।
পাষাণভার বয়ে চলা মানুষের ভেতর পাথরের পুনর্জন্ম ঘটে__
শুনতে পাই।

আত্মলীন এই সত্তা। কোনোদিন মানুষের কথা জানতে চাইনি। তাদের থেকে সুবিধা নিয়েছি অহরহ।

বৈপরীত্যে ঠাঁসা লোভী মন। __এইটুকু উপলব্ধি নিয়েও
বালিশকে কখনো জিজ্ঞেস করিনি রাতে সে ঘুমায় কিনা



দাসত্ব
.
মিথ্যার দশ ডানা,
তোমার নজরের মত বারদিকে উড়ে যায়;
তুমি তাকাই থাক
মুগ্ধ হও

সত্য তেঁতো
তার থেকে মুখ ফিরাই রাখ
ট্রেন জার্নিকে সন্দেহ করতাম
আর তুমি নাকি সেখানেই প্রেমে পড়ছ

ট্রেনে ভিড়ে জায়গা ছেড়ে দিলে মানুষকে ভালো মনে হয়
তারপর কথার শুরু…
__এই যে আপনি কয়ফুট?
__ ৫ ফুট ৬

ঋতুর সুবিধা নিয়া অভব্যের মত এসে তোমাকে সে বাতাস করে
গরমের থেকে রক্ষা পেয়ে আরও ঘনিষ্ঠ হয়া উঠো
তারপর ফোন নাম্বার বিনিময়
ছেলেটা হাতের থেকে ব্রেসলেট খুইলা দিলে অবলীলায় তা পরে ফেল
তোমার চোখে পড়ে না তার অভব্যতা

যেমন তোমাকে ভালোবেসে আমিও তোমার অভব্যতা থেকে চোখ সরাইয়ে রাখছি
তুমি ফেরাউনের মত বেইমান

ভালোবেসে তোমাকে চুবিয়ে মারব



দুর্ঘটনাপ্রবণ কবিতার উৎস

হাত তো গুণবে গুণিন। আসলে গুণার নামে ছুঁয়ে দেখে স্বপ্ন।

আমি হাত গুণি না, গুণি পায়ের পাতা।
মেধাবী পায়ের মসৃণতায় ছবি আঁকে সলাজ কবিতা।

ফিতে ছিঁড়ে গেলে তোমার হাতে শেষ নিঃশ্বাস ফেলে অলৌকিক জুতো।
ইচ্ছে হলো খুলে ফেলি আমার জুতো মুজো
নিজেকেই গলিয়ে দিই তোমার পায়ে।

ভগবান অনেক পেয়েছেন, এবার পায়ের পূজো হোক।
__ এই কথা কাউকে বলিনি; তবু জেনেছ শিক্ষিত চোখে।

মাঝে মাঝে জুতো জোড়া ছিঁড়ে যাওয়া ভালো।

জুতোর সনির্বন্ধ আলিঙ্গনে পায়ের পাতার চুমো পৌঁছায় না চোখে।
তোমার পা দেখার অবসর তো পেলাম।
ভালো তো কবেই বেসেছি, আজ থেকে পায়ের গোলাম।



অলৌকিক গল্পের পাহাড়

গ্যাব্রিয়েল ঘুমিয়ে গেলে নির্জনতা ভেঙে এক বুড়ো ঢুকে পড়বে স্নানের ঘরে।
অন্যমনস্ক তুমি বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে উড়ে যেতে থাকবে অনন্ত ঢেউয়ের ভেতর।
কলের পানির শব্দ ঝরবে টুপ টুপ;
আর ভিজে যেতে থাকবে ছাদ, দেয়াল, ঘুমাবার ঘর।
পানির সঙ্গে ভেসে আসবে মৃত মানুষের কান্নার দমক।
গ্যাব্রিয়েল চুপচাপ শুয়ে শুনবে গাঙচিলের চিৎকার,
তার ছায়াহীন উড়ে যাওয়া দেখে ফিরে যাবে গল্পের কথক।

বৃষ্টি থেমে যাবে মধ্য আকাশে, তারার ফুলকি জ্বলবে তোমার চোখে।
ওদিকে অভিমানে কাতর হবে নতুন প্রেমিকা, গ্যাব্রিয়েলের ঘুম তবু ফুরাবে না।
তার পাগলি মাঝ রাস্তায় বক্তৃতা দিতে দিতে জড়ো করবে মানুষের কলস্রোত।
মুরগি চোর ভেবে খুন হয়ে যাবে তোমার প্রেমিক; গ্যাব্রিয়েলের হাসি থামবে না।
গোঁফে তেল দিতে দিতে একপ্রস্ত ধুমপান সেরে নেবে।

তুমি সম্মোহিত উড়ে যেতে আছো কেবল।

তাকিয়ে থেকে চোখে বধিরতা নেমে এলে আমিও তলিয়ে যাবো বিষাদাত্মক বেশ্যার উরুতে মুখ গুঁজে।
পতনের সিঁড়ির গোড়ায় হাসবে আজাজিল।
উঠোনে রাত জেগে দাদি উন্মোচন করবে তার জীবন, ডেকে উঠবে অচেনা পাখি আর বিষাতুর গাঙচিল।

তোমার প্রেমিক তলিয়ে যেতে যেতে বাড়াবে হাত;
তাকিয়ে দেখবে গল্পের ভেতর কেটে গেছে আটাত্তর রাত।