বলিউডে নিষিদ্ধ পাকিস্তানি শিল্পীরা

(বাম দিক থেকে) ফওয়াদ খান, মাহিরা খান এবং রাহাত ফতেহ আলি খান।

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় ১৪ ফেব্রুয়ারী দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর গাড়িবহরে  বিস্ফোরক বোঝাই একটি চার চাকার গাড়ি ঢুকে পড়ে। ওই গাড়ি বিস্ফোরণে সেনা নিহত হবার পর থেকেই প্রতিবাদে ফুঁসছে গোটা দেশ। সিআরপিএফ সেনাদের মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন যেমন চলছে, তেমনই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া ‘প্রত্যাঘাত’-এর দাবি উঠেছে নানা মহল থেকে। এ বার সেই প্রতিবাদে শামিল হল বলিউড।

পাকিস্তানের শিল্পীদের ভারতে কার্যত ‘বয়কট’ করল বলিউড। ফওয়াদ খান, মাহিরা খান এবং রাহাত ফতেহ আলি খানদের মতো শক্তিশালী শিল্পীদের নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। পাক অভিনেতা, গায়ক-গায়িকা, শিল্পী বা কলাকুশলীদের সঙ্গে মুম্বাইয়ের প্রযোজক পরিচালকদের কাজ করার উপর ‘নিষেধাজ্ঞা’ জারি করেছে মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রধান সংগঠন দি ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (এফডব্লিউআইসিই)।সংগঠনের মুখ্য উপদেষ্টা অশোক পণ্ডিতের মন্তব্য, ‘‘বারবার দেশে হামলার পরও যাঁরা পাকিস্তানের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার জন্য লালায়িত, তাঁদের লজ্জা হওয়া উচিত।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে উক্ত পরিচালক, প্রযোজককেও ‘বয়কট’ করা হবে বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন অশোক পণ্ডিত। তিনি বলেন, ‘‘যে সব প্রযোজক, পরিচালক পাকিস্তানী অভিনেতা-শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার জন্য জোরাজুরি করবেন, এফডব্লিউআইসিই তাঁদের বয়কট করবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারি ভাবে এই অনমনীয় ফতোয়া জারি করা হল। বারবার আমাদের দেশে আক্রমণ করার পরও পাকিস্তানের সঙ্গে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের লজ্জা হওয়া উচিত।  তাঁদের যখন লজ্জা নেই, তখন আমরাই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছি।

এফডব্লিউআইসিই-র বয়কট মানে মুম্বইয়ের বিনোদন জগতে কার্যত আর পা রাখতে পারবেন না কোনও পাকিস্তানি অভিনেতা, গায়ক-গায়িকা বা কলাকুশলী। কারণ, বলিউডের সিনেমা, টিভি, মিউজিক, বিজ্ঞাপন সমেত যাবতীয় ক্ষেত্রের প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী, কলকুশলীদের ২০টিরও বেশি সংগঠনের মাথায় রয়েছে এফডব্লিউআইসিই। বিনোদন জগতের যে কোনও ক্ষেত্রে যাঁরাই কাজ করেন, তাঁরাই এই ২০টির মধ্যে কোনও না কোনও সংগঠনের সদস্য। আর এই সব সংগঠনের নিয়ন্ত্রক এফডব্লিউআইসিই। সব মিলিয়ে এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৫ লাখেরও বেশি। ফলে এফডব্লিউআইসিই কারও উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা মানে, তাঁর জন্য বলিউডের দরজাই বন্ধ হয়ে যাওয়া।

উরি হামলার পরেও নানা ভাবে প্রতিবাদ করেছিল বলিউড। কিন্তু বলিউডের এত বড় পদক্ষেপ এই প্রথম।

অশোক পন্ডিত আরও বলেন, “একটা লোক কী ভাবে এত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক নিয়ে কাশ্মীরে ঢুকতে পারে? সন্ত্রাসবাদী হামলা যখন বন্ধ হওয়ার কোনও লক্ষ্মণই নেই,সেই পরিস্থিতিতেও বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে কিছু লোক এখনও পাকিস্তানের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার জন্য হন্যে হয়ে পড়েন। প্রতিভা খুঁজতে যান সীমান্তের ওপারে।’’

এমনকি, সংগঠনের তরফ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ পাক শিল্পীদের নিয়ে সিনেমা করলে শুটিং ফ্লোরে গিয়ে ভাঙচুর করে দেওয়া হবে।

পুলওয়ামা হামলার পরের দিনই টি-সিরিজ ইতিমধ্যেই সব জায়গা থেকে পাক শিল্পীদের মিউজিক ভিডিয়ো এবং গান সরিয়ে নিয়েছে। ভবিষ্যতেও সেগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে সংস্থা। অন্য সংস্থাগুলিও একই পথে হাঁটছে।