মৃন্ময় চক্রবর্তী’র কবিতা : জীবনানন্দ আমার পাড়ায় থাকতেন

জীবনানন্দ আমার পাড়ায় থাকতেন

জীবনানন্দ আমার পাড়ায় থাকতেন।
একটা বাড়ির বাইরের দেওয়াল প্লাস্টার করতে গিয়ে
ভারা ভেঙে পড়ে তাঁর মাথায় আর কোমরে চোট লাগে,
তারপর থেকে তিনি কথা বলতে পারতেন না
সোজা হয়ে হাঁটতে পারতেন না
লোকজন দেখলে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতেন।
তাঁকে আমি বহুবার অঘ্রাণের কুয়াশায় হেঁটে যেতে দেখেছি
দেখেছি, আমাদের বাড়ির পাশে যে পুকুরটা ছিল
যেখানে মাঝরাতে তারা খসে পড়ত
সেই পুকুরের জল পশুর মতো মাথা নিচু করে পান করতে।
মগ্ন হয়ে সারাটা রাত মাঠের ভেতর কিছু একটা খুঁজতেন তিনি!
তাঁকে আর দেখতে পাইনা,
অনেকদিন হয়ে গেল সেই আশ্চর্য জিজ্ঞসাময় চোখ দুটো নজরে পড়েনি।
তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়নি, তিনি কবিতা লিখতেন কিনা!
কিম্বা লিখলে সেগুলো কোথায় রেখেছেন।
এইসব জানার আগেই হয়ত কোনো
অলৌকিক ট্রামলাইন তাঁকে ডেকে নিয়ে গেছে।

 


 

মানুষের দেবতা

নির্জন বটের তলায় একদল বালক খেলা করছে মনে হল
কাছে আসতেই দেখি খেলাধুলো ফেলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রয়েছে কয়েকটি দেবতা।
কারো চুল খসে গেছে, কারো নাক, কেউ বা সম্পূর্ণ নগ্ন, চটে গেছে রঙের উজ্জ্বল।
একদিন মানুষ তাদের ঢাক ঢোল ধূপ ধুনো সহযোগে পুজো করেছিল
আজ তারাই ফেলে গেছে তাদের পরিত্যক্ত প্রিয়জনের মত।
শিয়ালকাঁটার ঝোপে পাখির পুরীষ মেখে
মানুষের দেবতারা পড়ে আছে নির্বাসনে।
তারা খেলুক, আমি সরে যাই। মানুষের উপস্থিতি তাদের বিরক্ত করে বলে মনে হয়।

Comments are closed.