‘আসন্ন উপজেলা নির্বাচনেও প্রহসন হবে’

মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন উপজেলা নির্বাচনেও প্রহসন হবে বলে মন্তব্য করেছেন।

খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধাদল আয়োজিত এই আলোচনা সভায় ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর আমরা তথাকথিত নির্বাচন দেখেছি। সেখানে প্রমাণ হয়েছে, এই নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। এই কমিশন দিয়ে উপজেলা নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য হবে না। জাতীয় নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনও একটা প্রহসন হবে।’

তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচনে যারা নৌকা মার্কায় নমিনেশন পাবেন, তারাই পাস করবেন। এখানে কোনো প্রতিযোগিতার সুযোগ নেই, কোনো বিরোধী দল নেই। অতএব উপজেলা নির্বাচনও আরেকটি নাটক, আরেকটি প্রহসন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা হতাশ নয়, হতভম্ব। কারণ, যে ঘটনা ঘটার কথা ছিল না, সেই ঘটনাই ঘটেছে নির্বাচনের আগের রাতে। ৩০ ডিসেম্বরের ভোট ২৯ ডিসেম্বর হয়ে গেছে। এতে করে বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থকরা হতভম্ব হয়েছে, কিন্তু হতাশ হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি দু’টি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। এর একটি হলো, ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখ রাতে হয়েছে। আরেকটি হলো, সেই ভোটের ফলাফল দিয়ে একটি মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। এই দু’টি জাতীয় জীবনে অস্বাভাবিক ঘটনা।’

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র, মানুষের ভোটের অধিকার এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি একই সূত্রে গাঁথা। আজকে বেগম জিয়াকে কারাগারে নিঃশেষ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) জয়নাল আবেদীন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, নির্বাহী সদস্য শাহ মো. আবু জাফরসহ অন্যরা।