ফিরোজ আহমেদের গুচ্ছ কবিতা : প্রতিটা মানুষই একেকটা গোরস্থান

মানুষ

প্রতিটি মানুষই — অনেক পুরোনো , বিষন্ন আর বড় —
একেকটা গোরস্থান ।
সামুদ্রিক স্রোতের বিষয়ে দক্ষ বৃদ্ধদের মতন অভিজ্ঞতা
মাতৃদুগ্ধ না খেয়েই মরে যাওয়া শিশুদের মতন স্মৃতি ..
এইসব নানান … ভালো এবং ভাঙাড়ি …
ছুঁয়ে দেখা হয়নি এমন রমণীদের নাভির চিত্রকল্প …

নিয়ত কবরস্থ হয় মানুষের ভেতরগ্রামে ।
সেই গোরোস্থানে ।

আমার ভেতরে যেদিন ঢুকবেন — প্রথমেই
দেখতে পাবেন … ছেলেবেলায়
কিনে আনতে আনতে ভেঙে যাওয়া —
একটা খেলনা এ্যারোপ্লেনের মাজার …

আজো তাই —
আমাকে খুঁড়লেই উঠে আসে — প্লাস্টিকের টুকরো …
রংকরা পাখা , স্প্রিং …

 


 

চিত্রকল্প

ঘুণেখাবে সেই ভয়ে ছাদের কড়িকাঠগুলোয়
আলকাতরা দিয়েছি ।

কিছু ল্যাপটানো কালোয় হঠাৎ হঠাৎ
আনমনেই ফুটে উঠেছে নানান সব ছবি ।
আমি চিৎ হয়ে শুলেই — একটা হাঁস ভেসে ওঠে … চটকাধানের ডগা বেরোনো জলায় … ।
আনাড়ি রংমিস্ত্রির বেভুল চিত্রকর্মে —
বহু দূরের একটা শীতকালীন বাবলা গাছ …
আলকাতরার একেকটা অমনোযোগী ছিটে-ফোটায় …
অনেক গৃহাভিমূখী পাখি ।

আমাদের এই জীবনানন্দীয় কলমিঝোপ থেকে
স্পেন যেদিকে —
আমার আবহমান ছাদের সেই দিকে —
ঘাড় গুঁজে তেড়ে আসা একটা ষাঁড় …
সেখানে ভূগোলের জ্ঞানহীন রংমিস্ত্রি —
আলকাতরার দীপ্যমান কালোয় …
লালকাপড় দোলানো একজনও ম্যাটাডর আঁকেনি ।

কালোর ভেতর কালোয় অনেক বিমূর্ত চিত্রকলা —
আমার ছাদে ।
আমার আত্মিক অসম্পূর্ণতার মতো …
নিজস্ব অকারণ অহংকারের মতোই —
তাদের অনেককেই ব্যখ্যা করা যায় না … ।

ভাবছি , হয়ত অন্য কোনো দেশে —
কে জানে কার ছাদে — কোন আলকাতরায় …
সমান্তরাল লাইনে ফুটে উঠেছে —
ভোটাধিকার প্রয়োগপ্রত্যাশী একটা স্বতঃস্ফূর্ত লাইন…

একটা তাজা চিত্রকল্প !

 


 

হস্তরেখা

পরিনামবিদ্ধ এইসব হস্তরেখা …
এই যে মুষ্টিবদ্ধ সিংহ , মেষ ও মীন
এই যে কুম্ভ ও কন্যা …
স্খলিত ভাগ্য হলে দেখেছি —
কখনো কনুইসহ কাটা পড়ে … ।

দেখেছি —
তামাদিদোষে বিপন্ন বৃদ্ধার অসাড় আঙুল …
তার উপযোগহীন অনামিকায় …
কখনো অকারণে ফুটে ওঠে —
কত্থকনৃত্যের কোনো গরিমাময় বৈধমুদ্রা ।

কোথায় যেন — এক বিচিত্রদৃক কবির —
একটি তরলীকৃত কবিতার সাথে —
এই জীবনের দারুণ মিল । আর হস্তরেখা …
যেন কোনো অপবাহিত শিল্পীর
এক অমোচনীয় চিত্রলেখ … ।

গোরস্থানগামী পথের একটি সাংকেতিক ম্যাপ ।