সিনেমায় চঞ্চল: অভিনয়ে তার পরিচয়

 

ই সময়ের শক্তিমান অভিনেতাদের একজন চঞ্চল চৌধুরী। পরিবারের দেয়া নাম সুচিন্ত চৌধুরী চঞ্চল। ১৯৭৪ সালে পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মফস্বলে শেষ করেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত পড়ালেখা। ইন্টারমিডিয়েট শেষে ভর্তি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সাংস্কৃতিক আবহে বড় হওয়া চঞ্চল চৌধুরী বেঁচে নিলেন চারুকলা। যুক্ত হলেন মঞ্চ নাটকের দল আরণ্যকে। ‘কালো দৈত্য’ নাটক দিয়ে শুরু হয় অভিনয় যাত্রা। ২০০০ সালে ফরিদুর রহমান পরিচালিত গ্রাস নাটকের জন্যে ক্যামেরার সামনে আসেন তিনি। টেলিভিশনের পর্দায় দর্শকরা আবিষ্কার করেন তরুণ এক অভিনেতাকে। অভিনয় চঞ্চলের রক্তের সাথে মিশে গেছে। নাটকের সকল সীমাবদ্ধতা পার করে যখন বড় বাজেটের কাজে হাত দিলেন চঞ্চল অভিনয় দিয়ে বারবার মুগ্ধ করলেন দর্শকদের। সময়টা ২০০৬ সাল।  তৌকির আহমেদ পরিচালিত সিনেমা ‘রূপকথার গল্প’ দিয়ে অভিষেক হয় সুচিন্ত চৌধুরী চঞ্চলের। একে একে অভিনয় করলেন মনপুরা, মনের মানুষ, টেলিভিশন, আয়নাবাজি এবং দেবী চলচ্চিত্রে। আজকে জানবেন চঞ্চল চৌধুরীর কিছু সিনেমা সম্পর্কে।

রূপকথার গল্প
চঞ্চলের আলোকচিত্র। ছবিঃ ইন্টারনেট

ইমপ্রেস টেলিফিল্মের পরিবেশনায় ফরিদুর রেজা সাগর ও ইবনে হাসান খান প্রযোজিত রূপকথার গল্প চঞ্চল চৌধুরীর প্রথম চলচ্চিত্র। বেকার যুবকের চরিত্রে অভিনয় করে চঞ্চল। চাকরীর প্রথম দিনেই চাকরী চলে যাওয়া যুবক রাস্তায় কুড়িয়ে পান একটি বাচ্চা। বাচ্চাটিকে বাঁচানোর জন্যে যুবকের আকুতি ছুঁয়ে যায় দর্শকদের মন। জিতে নেন সেরা অভিনেতা হিসেবে মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার।

মনপুরা
মনপুরা চলচ্চিত্রে চঞ্চল আর ফারহানা মিলি। ছবিঃ ইন্টারনেট

সোনাই আর পরীর বিয়োগাত্মক গল্প নিয়ে তৈরি মনপুরা চলচ্চিত্র। মনপুরা চলচ্চিত্রে সোনাই চরিত্রে অভিনয় করে চঞ্চল চৌধুরী। গিয়াসউদ্দীন সেলিম পরিচালিত মনপুরা চলচ্চিত্রে অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মনে নতুন করে আলোড়ন তুলেন চঞ্চল। জিতে নেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। মনপুরা সিনেমার প্রতিটি গান দর্শকের ঠোঁটে এখনো লেগে আছে। সোনাই পরীর ট্রাজেডি নিজের জীবনের সাথে মিলিয়ে চোখের জল বিসর্জন দিয়েছেন হাজারো দর্শক।

মনের মানুষ
মনের মানুষ সিনেমায় চঞ্চলের সাথে পাওলিদম

গৌতম ঘোষ পরিচালিত মনের মানুষ সিনেমায় অভিনয় করেন পশ্চিম বাঙলার জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিত চ্যাটার্জীর সঙ্গে। নিজের অভিনয় দিয়ে দুই বাঙলার সিনেমা পাগল দর্শকদের মন ছুঁয়েছেন চঞ্চল।

টেলিভিশন
টেলিভিশন সিনেমার প্রছদে চঞ্চল

সিনেমার প্রতিটি চরিত্রে চঞ্চল নিজেকে প্রমাণ করেছেন। মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীর ‘টেলিভিশন’ কেন ব্যতিক্রম থাকবে। টেলিভিশন চরিত্রে মোশারফের পাশাপাশি অভিনয় দিয়ে চঞ্চল নিজের অভিনবত্ব প্রমাণ করেন।

আয়নাবাজি
আয়নাবাজি সিনেমায় মূল চরিত্রে অভিনয় করেন চঞ্চল।।ছবিঃ ইন্টারনেট

চঞ্চল অভিনীত প্রতিটি চরিত্র নিজের করে নিয়েছেন তিনি। দর্শক প্রতিটি চরিত্রে নতুন চঞ্চলকে দেখেছে। সিনেমা ব্যবসা সফল হয়েছে। তারপরেও এখনো চঞ্চলকে চিনতে পারেনি দর্শক। আয়নাবাজি সিনেমা চঞ্চলের অভিনয় বিস্ময়ের একটি উদাহরণ। অমিতাভ রেজা পরিচালিত আয়নাবাজি চলচ্চিত্রে একাধিক চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরেছেন তিনি। চঞ্চল চৌধুরীর অভিনয় গুণে প্রতিটি চরিত্র নিজের নামেই দর্শক চিনতে পেরেছেন। অভিনয় ভেলকি দিয়ে দর্শকের মনে চোরাবালি তৈরি করছেন তিনি। শাফায়েত করিম আয়না  চরিত্রে অভিনয়ের জন্যে দ্বিতীয় বারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেন চঞ্চল চৌধুরী।

দেবী
দেবী
মুক্তির অপেক্ষায় থাকা দেবী চলচ্চিত্রের পোস্টার । ছবি : ইন্টারনেট

কিংবদন্তী কথাসাহিত্যিক হূমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত দেবী চলচ্চিত্রে ‘মিসির আলী’ চরিত্রে অভিনয় করেন চঞ্চল। হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট এই চরিত্রে অভিনয় করা যে কোন অভিনেতার জন্যে ভয়ের কারণ। নিজের সামর্থ্যকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া মিসির আলী চরিত্রে হয়ত নতুন এক চঞ্চলকে আবিষ্কার করবে দর্শকরা। আবার হয়ত সিনেমা হলে দর্শকরা হাততালির বন্যায় ভাসাবেন প্রিয় এই অভিনেতাকে।