চূর্ণীর গুচ্ছ কবিতা : সোহাগী জলছাপ

একা একা আর বসে থাকা যায় কতক্ষণ?
অহেতুক সব ভাবনা চিন্তা বাদ দেয়…
ভাবে খুব! ভাবে তোমাকে ছিনিয়ে আনবেই…
সাধ বড়! তবু সে ছেলের নেই সাধ্যে।  

কী এমন হত একবার যদি চাইতে?
কী এমন হত ডাকনাম ধরে ডাকলে?
জানি বামনের অলীক ভাবনা খুব পাপ…
তবুও কি খুব ক্ষতি হয়ে যেত থাকলে?

মুখচোরা ছেলে। সাহস থাকে না সঞ্চয়ে…
যেন সিনেমার বাঁধাধরা এক দর্শক!
শেষ থেকে শুরু –জানা থাকে প্রায় সবটাই;
তবু থাকে বসে… একাকী আলোকবর্ষ!

একা একা আর বসে থাকা যায় কতদিন?  
একে একে এসে ডুবে যায় সব নৌকা…
ভীতু সেই ছেলে দূর থেকে শুধু দেখছে…
তারা খসে আর তুমিও হলে বউ কার!

মিলিয়ে দেবার দায় নেই। তবু শুনছো?
যে ছেলে তোমার নাম লেখে সব নৌকায় —
এ জীবন যাক। পরজনমে পারলে…
সাহস করে হতে পারবে কী বউ তার?

পরজনমে… হাতটুকু ধরো পারলে…

পরজনমে… তুমিই হয়ো বউ তার…

 



তুমি বলেছিলে বেশী কথা বলতে নেই।
কথা ফুরিয়ে গেলে সবকিছু বড় অসহ্য হয়ে ওঠে।
বলেছিলে, এত প্রশ্ন কোরো না। করতে নেই।
আমি এমনিতেই ভীতু… এতসব ভারী ভারী কথায়,
গুটিয়ে গেছি আরও…
চুপচাপ রয়ে গেছি। প্রাচীন কোনো অসুখের মত।
মুখ তুলে চাইলেই
কড়া ওষুধ খেয়ে,
থামিয়ে দিতে পারো।

এখন তোমার মনে নেই অস্তিত্বটুকুও।
আমি তবু রয়ে গেছি…
ভাষাহীন হয়ে।
আজকাল বেশ কিছু নতুন মুখ দেখতে পাই তোমার আশেপাশে…
জিগেস করার সাহস হয়নি কখনোই;
তবু কানাঘুষোয় শুনেছি —
রোগ সারানোর হেতু
তোমার তাদের প্রয়োজন পড়েছে।

 


 


সোহাগী জলছাপ। থাকে না বেশীক্ষণ
না দিয়ে কোনো দায়, ঝরে যায় অকালে,
তুমিও তেমনই। হঠাৎই সরে যাও…
তবুও পা ছুঁই। প্রতিটি সকালে।

সময়ও জানে তাই ঘড়িও থামে না
তোমারও ঘুম নেই…মনেরও খুব চাপ!
এসবে আটকে বোঝা আর হয় না
কার কুলুপ নেই? কেই বা চুপচাপ?!

দুহাতে জড়ো করে প্রাপ্ত অভিমান
অসাবধানে কেউ ভেঙেছে নিজেকে…
একাকী বসে শুধু বৃষ্টিই দেখেছো,
বোঝোনি বৃষ্টিতে বাইরে ভিজে কেউ।

সোহাগী জলছাপ। টেকেনি বেশীদিন।
তোমারও দায় নেই। ফুর্তি করো যাও…
এমনই চলুক আর, হঠাৎই একদিন
নীরবে এঁটে যাক, সকল দরোজা।