প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পিটিশন দাখিল

পুলওয়ামা হামলার পর জইশ ঘাঁটিতে ভারতের বিমান হামলার পর ভারতীয় সেনাদের কুর্নিশ জানিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। টুইটারে জয় হিন্দ লিখে জওয়ানদের স্যালুট জানিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। এতেই বিতর্কের সূত্রপাত।

ইউনিসেফ এর শুভেচ্ছাদূত প্রিয়াংকা চোপড়া। ছবি-সংগৃহিত।

আর এই কারণেই তাকে UNICEF-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাস্যাডর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে অনলাইনে পিটিশন দায়ের করল পাকিস্তান। পিটিশনে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার স্বাক্ষর পড়েছে।

দাখিল করা অনলাইন পিটিশনে লেখা হয়েছে, ‘দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুধু ধ্বংস ও মৃত্যু ডেকে আনে। ইউনিসেফের গুডউইল অ্যাম্বাস্যাডর হিসেবে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ থাকা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি তা থাকেননি। তাই এই খেতাবের যোগ্য তিনি আর নন।’

২০১০ সাল থেকে  শুভেচ্ছা দূত হিসাবে কাজ করে আসছেন তিনি। যার আওতায় পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় অবহেলিত শিশুদের নিয়ে সচেতনতা তৈরি, নারীর অধিকার সুনিশ্চিত করা, তাদের কাছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, পরিবেশ রক্ষা এবং লিঙ্গ বৈষম্যের অবসান সংক্রান্ত সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করতে হয় তাকে। এ হেন প্রিয়াঙ্কা নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার বদলে, ভারতীয় সেনার গুণগান করতে শুরু করলে, রুষ্ট হন পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবী মহল। ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসাবে প্রিয়ঙ্কাকে সরানোর দাবি তুলে www.avaaz.org ওয়েবসাইটে পিটিশন দায়ের করেন তারা।

ইতোমধ্যে ওই পিটিশনে কয়েক হাজার মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, ‘দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বাধলে মৃত্যুমিছিল শুরু হবে। এতদিন ধরে যা কিছু গড়া হয়েছিল, এক লহমায় সব নিঃশেষ হয়ে যাবে। ইউনিসেফ-এর শুভেচ্ছাদূত হিসাবে কোথায় নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার। শান্তির বার্তা দেওয়া উচিত ছিল। তা না করে ভারতীয় বায়ুসেনার গুণগান করেছেন উনি, যারা কিনা আকাশসীমা লঙ্ঘন করে পাকিস্তানে ঢুকে এসেছিল। এর পর আর ওই পদে থাকা মানায় না প্রিয়ঙ্কার। অবিলম্বে ওকে সরানো হোক।’

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে প্রিয়ঙ্কা চোপড়া এবং ইউনিসেফের তরফে এখনও পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।