ফিরোজ আহমেদের কবিতা : গোলাপ চারাটি আত্মহত্যা করেছিল

বুনোপাখিদের গান

ওপাড়ায় ভেসে ওঠা চাঁদ, এতো সুন্দর হলে কেন?
ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না
দূর থেকে জ্যোৎস্নার রেণু মাখি
বাতাসে ভেসে আসা হাস্নাহেনার গন্ধের মতো।

একটা ইঁদুর গর্ত খোঁড়ে বাম অলিন্দে
ঘুরেই চলেছে ঘড়ির চাকা
দুর্ভিক্ষ আসে
বন্যা আসে
স্বাধীনতা চুরি হয়,
ফসল পুড়ে যায়
আয়নায় তাকালে তবু তোমাকেই দেখি,
পোড়ামাঠে জন্মানো প্রথম ফুলের মতো।

ছেঁড়া পকেটের দিনে
হঠাৎ শোনা সুমনের গানে
ভূমিকম্পে বেঁচে যাওয়ার পর
গভীর রাতের শেষ সিগারেটে
তুমিই কেন বার বার আসো মগজ-মুদ্রাদোষে!

বুনো পাখি বাগান আর ক্ষেতের বিভেদ বোঝে না
ফুলদানিতে শুকিয়ে চলে মালিকের দীনতা
ঘড়ির চাকাটা ঘুরছে ভীষণ
কে কার সময় গুণে রাখে!


দ্বৈত

পাহাড়ে গেলে নদীটা কাঁদে
সাঁতারের কালে তবু পাহাড় ছোঁয়া যায়
কলাবিদ পুরুষ জানে, পাহাড় না-ছুঁয়ে নদীতে যেতে নেই
খেই হারালে ফুল ঝরে যায় ফাগুনের আগেই।

নদী কারো নিজস্ব নয় জেনেও
পুরুষ ভগবান নিজেদের নামেই নিয়েছে লিখে,
নিজে সে নানান নদীর নাম মগজে ল্যাখে
আর নদীকে গ্লাসে ভরে ঈশ্বরের নামে।


পরিচয়

পুষ্পগুলো ফুল হয়ে যাবার পর
গোলাপ চারাটি আত্মহত্যা করেছিলো।
তার শিকড় থেকে পুঁজিবাদের গন্ধের সাথে
বেরিয়ে এলো পাতাবাহারের বেজন্মা সুন্দর।

আমরা হাটুকে বললাম মাথা, আর
মাথাকে দিলাম হাটুর পরিচয়।


পাখি-স্বভাব

প্রেমিকা বন্ধুর সাথে পালালে, পুরুষ তুমি কেঁদো না
মাঝে মাঝে বন্ধুর বাড়ি যাও, দেখে এসো
ডালের পাখিরা খাঁচাতে ভালো নেই
গান থেমে গেলে ঘরময় শুধু বিষ্ঠার গন্ধ।

তারচেয়ে ভালো বাগানই হোক তোমার ঘর
পাখিরা আসবে, চলে যাবে
গানের পাখিরা একক কারো খাঁচাবাসী প্রেম নয়,
অদেখা পাখিদের গান সবচেয়ে সুমধুর হয়।