মনীষা চক্রবর্ত্তী : বিসিএসের চাকরি ছেড়ে দেওয়া এক গরিবের ডাক্তার

মনীষা চক্রবর্ত্তী সাহসী ও প্রতিবাদী এক নারীর নাম। মেডিকেলে পড়ালেখা শেষ করে ৩৪তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন পদে নিয়োগ পান তিনি। কিন্তু সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে এই চিকিৎসক বিনা পয়সায় গরিব মানুষকে চিকিৎসা দেন, নারী, শিশু ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে থাকেন তিনি। শ্রমিক ও বস্তিবাসীর কাছে ‘দিদি’ নামে পরিচিত তিনি।

ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীর জন্ম বরিশাল নগরীর শ্রী নাথ চ্যাটার্জীলেনের পৈত্রিক বাড়িতে। চিকিৎসক-রাজনীতিবিদের বাবা আইনজীবী তপন কুমার চক্রবর্ত্তী ছিলেন ৯ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা। মা রিনা চক্রবর্ত্তী গৃহিণী। তিন বোনের মধ্যে ডা. মনীষা কনিষ্ঠ।

নারীদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি তনু হত্যার প্রতিবাদে বরিশালে ছাত্র ধর্মঘটসহ ধারাবাহিক আন্দোলন, সারাদেশে সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব-নারী নির্যাতন বিরোধী আন্দোলন ও শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি সব সময়ই রাজপথে ছিলেন সোচ্চার ও অগ্রণী ভূমিকায়।

৩৪তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন পদে নিয়োগ পেলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা, সব ধরনের নিপীড়ন ও বৈষম্য বিলোপ, নারী নির্যাতন বিরোধী আন্দোলন ও শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি সোচ্চার ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

নারীর ভূমিকা প্রসঙ্গে ডা. মনীষার বলেন, প্রাচীনকাল থেকেই সভ্যতা বিকাশে নারীর ভূমিকা অপরিসীম। যুগে যুগে নারীরা সময়ের মাইলফলক হিসেবে অবদান রেখে চলেছেন। সেই নারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। নারীর স্বার্থ রক্ষা এবং নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে নারীবান্ধব রাষ্ট্র তৈরি করতে হবে। শুধু নারীবান্ধব রাষ্ট্রই নয়, নারীবান্ধব সমাজ ও পরিবার গঠন করতে হবে।

মনীষা চক্রবর্ত্তী বলেন, নারীদের বাঁকা চোখে দেখার দিন শেষ। তারা এখন নিজেরা জায়গা করে নিচ্ছেন। নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছেন। নারীরা যথেষ্ট সবল। নারীরা ভাবেন, স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু সেটার বাস্তব রূপ দিতে সাহস পান না। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে হবে। বাড়াতে হবে মনোবল। লক্ষ্য ছাড়া কোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়।