যৌনপল্লী থেকে বিচারকের আসনে সিন্টু বাগুই

২৭ বছর বয়সী সিন্টু বাগুই একজন যৌনকর্মীর সন্তান। বেড়ে উঠেছেন যৌনপল্লীতেই। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের পরের দিন এই সিন্টু ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শ্রীরামপুরে লোক-আদালতের বিচারকের আসনে বসলেন।

বিচারকাজ সামলে তিনি বলেন, ‘যৌনকর্মীর সন্তান এবং রূপান্তরকামী হিসেবে সম্ভবত আমিই প্রথম এই দায়িত্ব পালন করলাম। আত্মবিশ্বাস বাড়ল।’

সিন্টু জানান, দশ বছর বয়স থেকে তার মধ্যে ‘মেয়েলি’ ভাব প্রকট হতে থাকে। এ নিয়ে বাড়িতে অনেকের বাঁকা কথা শুনতে হয়েছে, মারধরেরও শিকার হয়েছেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার পর জড়িয়ে পড়েন রূপান্তরকামীদের আন্দোলনে।

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের সূত্রে অনেক জায়গায় যেতে হয়। নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরি। এক সময় টিপ্পনী করতেন, এমন অনেকেই আজ উৎসাহ দেন। বাড়ির পরিবেশও পাল্টে গেছে। আমার সাফল্যে বাড়ির সবাই খুশি। বোন নিজে আমাকে শাড়ি পড়িয়ে দেয়।’

সাত বছর আগে সিন্টু বাগুই মাকে হারিয়েছেন। আক্ষেপ করে বললেন, ‘মা বেঁচে থাকলে খুশি হতেন। যৌনকর্মীর সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠা হয় না। দুর্বার সমন্বয় কমিটিতে যৌনকর্মীদের ভালমন্দ নিয়ে কাজ করি। এই পেশাকে সম্মান, শ্রদ্ধা করি।’

শনিবার সিন্টুর সঙ্গে ছিলেন ‘ডালসা’র সচিব অনির্বাণ রায় ও আইনজীবী অংশুমান চক্রবর্তী। অনির্বাণ বলেন, ওই বেঞ্চে বিএসএনএল সংক্রান্ত প্রায় আড়াইশ’ বিষয়ের বেশির ভাগই নিষ্পত্তি হয়েছে। সিন্টু অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সিন্টুর কথায়, ‘স্যার (অনির্বাণ) নিয়ম-কানুন শিখিয়ে দিয়েছিলেন। ভরসা রেখেছেন। কোনও অসুবিধা হয়নি।’