ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো দ্বীপ নয় : আলী রীয়াজ

গতকাল (সোমবার) দুপুরে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোন দ্বীপ নয়, এর অবস্থান বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্রেই বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর আলী রীয়াজ।

ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর আলী রীয়াজ লেখেন, গত রাতে ভিসি এবং তার পাইক-পেয়াদারা সুবিধার উচ্ছিষ্টের লোভে কিংবা মানসিক দাসত্বের বাধ্যবাধকতায় যা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তা আজ দিবালোকে উন্মোচন করে দিয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের পেটোয়া বাহিনীর সামনে তারা দাঁড়িয়েছে। গত রাত ও আজকের (গতকাল) সকাল-দুপুর পেছনে ফেলে শিক্ষার্থীদের জন্যে এখন সিদ্ধান্তের বিষয় হচ্ছে আগামী দিনগুলোতে তারা সম্মিলিতভাবে কিভাবে অগ্রসর হবে। ডাকসু নির্বাচন কেবল ভোট দেয়া-নেয়ার বিষয় নয়, এর কাজ হচ্ছে আগামীর পথরেখা নির্ধারণ এবং নেতৃত্ব তৈরী করা – এই নির্বাচনের প্রক্রিয়া একটি যৌথ নেতৃত্বের, সম্মিলিত নেতৃত্বের জায়গা তৈরী করেছে। সেই নেতৃত্বকে বুঝতে হবে তার দায়িত্ব কি, নিশ্চয় তারা তাঁদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে বুঝতে পারেন শিক্ষার্থীর ভোটের অধিকার এবং নাগরিকের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা অবিভাজ্য। শিক্ষার অধিকার ও গণতন্ত্রের লড়াইয়ের মধ্যে চীনের প্রাচীর নেই।

আরও এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন কুয়েত মৈত্রী হলে যা ঘটেছে তা ব্যতিক্রম বলে মনে করার কারণ নেই, কেবল একটি হলের কর্তৃপক্ষ এই ধরণের কাজ করার সাহস দেখাতে পারেন এমন পরিস্থিতি দেশে নেই। অন্যান্য হলে এই ধরণের অন্যায় ও জালিয়াতির চেষ্টা হয়েছে কিনা, অন্যভাবে কোনো অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়েছে কিনা তা চিহ্নিত করা, তা প্রচার করা হচ্ছে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের এই মুহূর্তের কাজ। কুয়েত মৈত্রী হলের প্রভোস্টকে বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব অস্বীকারের যে পথ বেছে নিয়েছেন, ভিসি যে ধোঁয়া তুলসী পাতা সাজতে চাইছেন তা সংঘটিত অপরাধের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। ডাকসু নির্বাচনের ইতিহাসকেই কেবল কলংকিতই করা হয়েছে তা নয়, দেশে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার যে প্রক্রিয়া তাতে ভিসি ও তার পাইক-পেয়াদা-সিপাহী-বরকন্দাজরা প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সব কথিত শিক্ষক, তাদের বিবেক বিসর্জন দিয়ে দলের নিচু পর্যায়ের লাঠিয়ালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন, তাদের কাছে আবেদন করে লাভ নেই। আমি আশা করি বিবেকবান প্রকৃত শিক্ষকরা এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসবেন। আর শিক্ষার্থীদের উচিত হচ্ছে প্রতিটি হলেই তাদের উপস্থিতি জোরদার করা। যারা প্রার্থী ও নেতৃত্বের জায়গায় আছেন তাদের কর্তব্য হচ্ছে অধিকার লঙ্ঘনের পরে তারা সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নেবার জন্যে ঐক্যবদ্ধ হবেন। ডাকসু নির্বাচন কেবল ভোট চাওয়া ও দেওয়ার বিষয় নয়।